মানুষের আশা- আকাংখার কোনো শেষ নেই। এর আগে এক প্রবন্ধে বলেছিলাম ভাল থাকার সহজ উপায় হল- চাহিদাকে সীমিত রাখা। কিন্তু আমরা তা সব সময় পারি না। অপরের সৌন্দর্য আর সম্পদে দৃষ্টি দিতে নেই। অথচ আমরা তাই প্রতিনিয়ত করে থাকি। কারো বাড়ি দেখে বাড়ির লোভ জাগে; কারো নতুন গাড়ি দেখে গাড়ির লোভ জাগে। অন্যের বেশি দেখলে বা ভাল কিছু দেখলে খারাপ লাগে; নিজের করে পেতে চাই।
যেমন একজন লোক নারকেল গাছের নিচে দাঁড়িয়ে নিজের কষ্টের কারনে (মৃত্যু কামনার্থে) বলল, হে আল্লাহ আমার মাথায় ঠাডা ( বজ্রপাত) ফেলো। তখনই উপর থেকে একটা নারকেল তার পাশে পড়ল , সৌভাগ্য বশতঃ মাথায় পড়ে নি। আরেকজন তাই দেখে বলতে লাগল: আল্লাহ! আমার মাথায় দুইডা ঠাডা ফেলো। এই হলো আমাদের অবস্থা!
একজন লোকের পেট ব্যথার কারণে পেটে সিজারিয়ান করতে হয়। এতে কোমরের উপর থেকে লম্বালম্বি সেলাই করতে হয়। ডানপাশের এই সেলাইয়ের দাগ তার শুভ্র গায়ে কালো একটা নকশা হয়। একজন জিগ্যেস করল: আপনি শরীরে কি উলকি একেছেন?
: আরে ভাই না, সিজারের দাগ।
আরেজন এই শুনে বলল: আমি আমার পেটে দুইটা সিজার করাবো।
আমাদের নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ মানুষের পেট কিছুতেই ভরে না। অতঃপর মাটি দিয়ে ভরতে হয়, অর্থ্যাৎ কবরের যাওয়া পর্যন্ত চাহিদার শেষ নেই।
এই আশা, আকাংখা, লোভ-লালসা, কামনা, চাহিদা যদি নিয়ন্ত্রণে রাখতে না পারি তাহলে কখনো মন শান্ত রাখতে পারব না। আর জীবনে শান্তিও পাব না।
আমাদের এই চাহিদা আর অভিলাষ পরকালে জান্নাতেও থাকবে। একদিন রাসূল সা. এক বেদুঈনকে দেখে বললঃ জান্নাতে এক ব্যক্তি আল্লাহকে বলবে, হে পরওয়ারদেগার আমি কৃষিকাজ করতে চাই। আল্লাহ বলবেন, এখানে কি তোমার ইচ্ছা আকাংখার প্রতিফলন দেখতে পাচ্ছোনা ? সে বলবে: পাচ্ছি এ আমার রব। কিন্তু আমার কৃষি কাজ করতে মন চাচ্ছে। সে জমিনে চারা রোপণ করবে আর তা চোখের পলকে গাছ হয়ে যাবে। আল্লাহ বলবেন: তোমার অভিলাষ কি পুরণ হয়েছে? তোমাদের অভিলাষ কখনো পুরণ হবার নয়। (বুখারি)
সুতরাং আমরা অভিলাষের কাছে পরাজিত হয়ে গেছি। কেউ যদি অভিলাষের কাছে পরাজিত হয়ে যায়, তাহলে সে পৃথিবীতে যা ইচ্ছা তা করতে পারে। এই জন্যই দুনিয়াতে এতো অনর্থ।
আসুন আমরা চাহিদার কাছে যেন পরাজিত না হই। সব সময় মনকে নিয়ন্ত্রণে রাখুন।
Comments (6)