সবার রিয়েকশান চুপচাপ। খুটিয়ে দেখছি এই ঘর এইখানে স্মৃতি মায়া।

আমার শাশুড়ি হাত ধরে বললেন তুমি থাকও যেখানে ইচ্ছা তোমার কোনো সমস্যা নেই। বেটা মানুষ ৪-৫ বিয়ে করতেই পারে।
হুমমম।
কিছু না বলে চলে আসলাম। কাপড় চোপড় ঘুচিয়ে নিলাম। আমার কোনো কিছুই রেখে যাব না আর না কোনো স্মৃতি। বিয়ের একটি ফ্রেম ছিলো খুব শখের। এটা কি ফেলে দিব না ছিড়ে ফেলবো ভাবতে ভাবতেই হাতে মুছড়ে নিলাম। সুখের অনুভূতিতে এমন হাজারো ছবি প্রিন্ট করা যায়। যে আমার নয়,তার ছবি দিয়ে কি হবে?? আমি চলে যাব এখান থেকে। আমার দম বন্ধ হয়ে আসছে।

ছোট ভাই আর চাচা আসছেন নিতে। আমার জীবনে ছোট ভাই -ই সবকিছু। আমি কাঁদি নি,কান্না আমার আসেই নি আজ। আমার শাশুড়ি একদিন ঠিকই বলে ছিলেন, কেউ, মেয়ে বিয়ে দেয় এতো দূর। দেখো আজ আমি সাদা ড্রেস পড়েছি। কিন্তু গোলাপি ছোট ছোট ফুল আছে সাথে সবুজ পাতা,গোলাপি ওড়না।

-এই ফুলের মতো রঙ্গিন, আমার জীবনটাও এমন হতে পারতো। সে তাকিয়ে আছে আমার দিকে, সিয়ামের ধারণা তাকে ছাড়া আমি থাকতেই পারব না। হাসি পায় মানুষ কতটা আশা করে এমন সিচুয়েশনে থেকে, যে সে ছাড়া অকুল দরিয়া।

–না গেলে হয় না থেকে যাও, আমি তো তোমায় ভালোবাসি। ওটাতো বিদেশ যাওয়ার জন্য বিয়ে। সিয়াম চেয়ে আছে উত্তরের অপেক্ষায় ভাবছে আমি রাগ করে চলে যাচ্ছি।
না যায় না, থাকা যায় না আমি এখন থেকে বাড়িতে থাকবো। আমার কি হবে তানজু? জানি না।

'' আমি ব্যকুল হয়ে বিধাতার কাছে চাইব,
যে তিরস্কার আমায় সে তিলে তিলে দিলো।
এই গোটা অনূভুতি তার হয়ে ফিরে আসুক
তার মর্মে, কর্মে সেই পরিবার বোঝুক, ।
যে আমি নির্রবে সহ্যে গেছি যাতনা, তার যন্ত্রনা
মিথ্যের প্রাচুর্যে ভেঙ্গে দিক খিল।
খুব করে চাইবো,
এই অনুভব সে পায়,তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা
মানুষ গুলো ও যেন পায়। এতো অন্যায় যারা দেখেও না দেখা অন্ধের মতো দেখেছে।
সেই দিনও যেন এরা এভাবে অন্ধ আর বোবা থাকে।

গাড়িতে রোদের আলো পড়ছে, আমার রোদ চশমা আড়ালে ভারি চোখ বিরক্তি প্রকাশ করছে। তবু্ও ভালো লাগছে আমার পরিবারে আজ সবাই স্বাবলম্বী,টাকার কোনো অভাব নেই। যেই আমি এতো গুলো বছর শুধু সহ্যে গেছি সবঠিক হয়ে যাবে ভেবে আমার সংসার গুছিয়ে নিব। আসলে কিছুই ঠিক হয় নি না ওর আচরণ, কেয়ার, চিন্তা ধারা। এই চাকরিই জীবনের সুখ খুঁজে পাওয়া।

এতো অপমানের পর একটা মেয়ে শশুর বাড়ি থাকতে চায় শুধু নিরাপদ আশ্রয় আর ভরনপোষণের জন্য। কাজ না জানা,আয় না থাকা মেয়েদের জায়গা হয় না কোথাও। সেটা আদি যুগ থেকে শুরু করে এই আধুনিক যুগেও বহাল। আমার মাঝে মধ্যে মনে হয়, একটা দুস্ত, সম্বলহীন মেয়েদের জন্য থাকার জায়গা হোক। যেখানে কাজের বিনিময়ে খাদ্য থাকবে। নতুন নতুন কাজে মেয়েদের দিয়ে করানো যাবে। সরকারি থাকতো তাহলে কত ভালোই হত,জীবন সহজ হয়ে যেতো

-দেখো আমার মা কেমন বোকা মহিলাদের মতো কাঁদছেন। আমার তো কান্না আসে না আম্মা। এভাবে জড়িয়ে ধরো না,বসে কথা বলো। আমার মেয়ে এতো শক্ত হলো কবে থেকে,আমার অশ্রু গড়িয়ে পড়ছে মায়ের আঁচলে ।

ছোট ভাই বিদেশে থেকেই বলেছিলো অপেক্ষা কর আমি তোমায় নিতে আসব। ঘরের সব কিছু গুছিয়ে নিয়েছি সপ্তাহের ছুটি কাটিয়ে আমি আবার কাজের ফিরব। আমি সায়ানের শশুড় বাড়িতে এখন থেকে থাকবো।

''আসলে বড় ভাই পেতে হলে ভাগ্য, যা সবার ভাগ্যে জুটে না"। কিন্তু সায়ান আমার কাছে ছোট নয়,অনেকটাই বড় ভাই মনে হয়। সেদিক থেকে আমি অনেক ভাগ্যবান।

জীবন জুড়ে যেন দীর্ঘ শ্বাস। তাকে নিয়ে আমার কোনো ভালো স্মৃতি নেই। ভালো লাগার ভালোবাসাময় দুটো কথা নেই। সে এমনই থাকতে চাইলে থাকো নাইলে না থাকো চলে যাও। তার বড় ভাইয়াও এই কথা বলেছিলেন তার সাথে সংসার করলে এভাবেই থাকতে হবে।

-'মানুষ কুড়ে ঘরে থাকলেও স্ত্রীকে শুধু চারদেয়ালের ভেতর নয়,কথায় কাজে কর্মে তার ভালোবাসার প্রকাশ ঘটায়। আমার তার থেকে চেয়ে নিতে হতো,কখনো নিজের ইচ্ছায় একরত্তি জিনিসও এনে দিতো না হোক সেটা পড়ার বা খাবার। এতে নাকি টাকা নষ্ট হবে। আমার খুশি তার কাছে কিছুই না। অভিমান, রাগ সে কখনো ভাঙ্গাতে আসতো না, জড়িয়ে ধরে বলতো না ভালোবাসি, বা উষ্ণ চুমু খেতো।