আবেগে জীবন চলে না কখনো। হ্যাঁ উনার ভাই উনাকে খাওয়াবেন আজীবন এর মাঝে কিন্তু থেকে যায়। নিজের ভবিষ্যৎ বলে তো কিছু আছে। পরিবারে যখন ছোট অতিথি আসবে তাদেরকে কে দেখবে? বাবা মা হিসেবে নিজের সন্তানের জন্য কিছু কিনতে মন চাইবে আমার। ও দিতে পারবে বা দিতে পারব আমি। অপারগতা প্রকাশ কিভাবে করব? যেখানে সে কর্মক্ষম।
আমার প্রশ্ন এখানেই কেন ক্ষমতা থাকা স্বত্ত্বেও কাজ করবে না । হ্যাঁ সে কাজ করে নি আগে কখনো তাই বলে এখনো করবে না। উনার ভাই,ভাবি খাওয়ার দ্বায়িত্ব নিলেন আর আমার ভবিষ্যৎ সন্তানের দ্বায়িত্বকে নিবে কেউ কি বলেছেন?? সে কখনো আগ্রহী হয়ে বলে নি সন্তানের দ্বায়িত্ব আমার। আমি সব করব তোমাদের জন্য। সন্তান সংসারের নিয়ামত,বরকত আর কেউ পায় না,আমি চাই না। আমাদের বিদেশ নেওয়ার সামর্থ্য যাদের নেই তাদের কাছে কিভাবে সন্তানের ভবিষ্যৎ, দ্বায়িত্ব ছাড়া যায়। টাকা নেই টাকা নেই বলে যারা সারাদিন গুঞ্জন করে। উবারে আর কেয়ারে পয়সা নাই। তাদের বড় পরিবার কিন্তু আমাদের চেয়ে কি বেশি বড়!
- আমার বাবার বাড়ি গ্রামে ভাই,বোন বিদেশি, তাদের জমিজমা অনেক। এতে তোমার কিছু হবে না কারণ তুমি তাদের বোনের জামাই। মায়া, আদরের আপ্পায়নের ভাগিদার কোনো দ্বায়িত্বের নয়। তাদের ছেলে মেয়ে পরিবার আছে তবে তাদের সময় হলে নিশ্চয়ই দেখবে। এর জন্য হাত গুটিয়ে বসে থেকে ভাগ্যকে দোষারোপ করা যায় না।
আমি চেয়েছি শুধু বেশি না হোক কিছু হালাল রিজিক। এটাও তার দ্বারা হবে না আর না আমাকে কিছু করতে দিতো। আমার এই চাকরি তো শুধু জোর করে করা। আমার বাবা একা মানুষ তবু্ও আমাদের চাহিদা মিটিয়েছেন। সময়ের সাথে পরিবর্তনকে মানুষ মানিয়ে নেয়। কখনো কারো কাছে হাত পাত্তে হয় নি।
- আমি কখনো দেখিনি উনাদের ভাই,বোনের মধ্যে কোনো মায়া,মমতার সম্পর্ক। উনার মা এমনকি ভাই,বোন,ভাবি কেউই প্রয়োজন ছাড়া কথা বলে না। কোটি টাকার বাড়ি থাকলেও মন নেই তাদের এজন্য আমার সুখ হারাম এখানে । ঝগড়া হলে কথা বলা বন্ধ করে দেন। বেড়াতে যেতে বললে পরে যাবে আর সেই পরে কখনো আসে না সত্যি হয়ে।
মনে হতো এ সংসারে আমার এটা আজাদীর লড়াই। সেখানে সংসারের সুন্দর স্বপ্ন দেখা বারণ।সিয়াম তো কথায় কথায় কুচা মেরে কথা বলেন, নানান ধরনের কথা। যেন তার সাথে আমার ননদ, ভাবি মজার সম্পর্ক। ধীরে ধীরে আত্বীয়তায় আসে সংকোচ কারণ আমার থেকে বা আমার পরিবার থেকে অর্থ আসে না। আমি এই চার বছরে কখনো তাদের কোনো আত্ত্বীয়ের বাসায় যাই নি ।
-এইতো টিবওয়েলের পানি খারাপ বলায়, সে বলল তুই কোন প্রেসিডেন্টের মেয়ে যে তোর জন্য টিবওয়েল দিতে হবে। আমার সুন্দর চুল ঝরে প্রায় শেষ। ফিল্টার নেই সিলেট শহরে আশ্চর্য না।
এমন অসংখ্য কথা, জিনিস আছে, যা মানুষ ভালোবেসে নিজেদের জন্য সুন্দর করে মানিয়ে নেয়। এখানে সিয়াম নিজেই শুরু করেন কটুকথা দিয়ে । আমার অনেক দিনের শখ ছিলো একটা সেলাই মেশিনের। সে দিবে বলে দেয় নি,ভাবি (ঝা)ও দিবে বলে দেন নি। আমার এমন অনেক শখ আমি ত্যাগ করেছি যা,বিয়ের পর প্রত্যেক মেয়ে তার স্বামীর প্রত্যাশা করে।
আমি প্রায় সন্ধ্যার আকাশে তাকিয়ে ভাবি আমি কি সুখী?আমার অসুস্থতায় সে কখনো তার উষ্ণ বুক আমায় জড়িয়ে ধরে নি। আর না আমার বাবার অসুস্থতার খবরে আমাকে হাত শক্ত করে ধরে শক্তি জুগিয়েছে। সে শুধু ভেঙ্গেই গেছে মন থেকে সম্পর্ক পর্যন্ত। বিকেলে তারা গুনা হয় নি কখনো তার সাথে। এই বিশাল শহরে থেকেও তার সাথে ঘুরাঘুরি হয় নি পাচে যদি কেউ কিছু বলে। অর্থ নেই সার্মথ্য নেই এসব বলে তো আর জীবন থেমে থাকে না। তার দৈহিক চাহিদার টানে শুধু কাছে আসা। আমার এই দিন গুলো পুরাই হাহাকার অনুভব হয়েছে।
আমি পড়াশোনা করেছি বাহিরে যাব একটা বেটার লাইফ লিড করব। আশ্চর্য আমি কি থেকে কি হয়ে গেলার?? না আছে সুন্দর পরিবার আর না স্থায়ী ঠিকানা। আসলেই প্রত্যেক মেয়ের বুঝা এক বাবা আর ভাই যেভাবে টানে হাজবেন্ড সেটা পারে না৷ কেউ সংসার চাইলেই ভালোবাসা আর সংসার মিলে না, এতে রুপবতী নয় ভাগ্যবতী হওয়া জরুরি। সবকিছুই যেন এক ভায়োলেন্সের মধ্য দিয়ে,আমি ক্লান্ত, পরিশ্রান্ত।
আমার সাথে সে কখনো এক রজনী তাহাজ্জুদ নামাজ পড়েনি। আমার চোখ সে কখনো তাকিয়ে দেখে নি। আমার হালকা বাদামি চুল, গালের তিল, কপলের দাগ সে স্পর্শই করে নি আঙ্গুল চুয়ে। ঈদের রাতের মেহেদির গাঢ় রঙ হওয়া ছিলো মন বুঝানো। মেহেদির রং গাঢ় হলেই ভালোবাসা গাঢ় হয় এটা কেবল প্রবাদ আর খুশি হবার বাহানা। যে ভালোবাসতে জানে সে নিরবে যতনেই ভালোবাসতে পারে। আমি যদিও হাজার অভিযোগ করি, তার একটি শব্দও আসবে কিনা জানি না। এটা আপসোস নাকি আক্ষেপ জানি না।
শুধু জানতে ইচ্ছা হয় কেন এমন হলো জীবন?? এই পথ কোথায় নিয়ে যাবে আমায়।
Comments (0)
No comments yet. Be the first to comment.