সামান্যেই আত্মতৃপ্তি
আগে মানুষ সামান্যেই আত্মতৃপ্তি লাভ করতেন। অতীতে কেউ কেউ গ্রাম্য যাত্রার নায়ক হতে চাইতেন। খুবই সামান্য তার এ চাওয়া। এই চাওয়ার জন্য তিনি দিন-রাত খেটে মরতেন। প্রথমে যাত্রা দলের কর্তাব্যক্তিদের সাথে সখ্যতা গড়ে তুলতেন। তাঁদের মন জয় করার জন্য বিনামূল্যে অনেক কাজ করে দিতেন। তারপর অভিনয়ে ঢুকতেন এবং অভিনয় করতে করতে এক পর্যায়ে গিয়ে যাত্রার নায়ক হতে পারতেন। এমন অনেক লোক আছে যারা যাত্রার নায়ক হওয়ার পূর্বেই হয়তো বয়স শেষ হয়ে যেত বা (এমন কি) ভবলীলা সাঙ্গ হয়ে যেত।
কিন্তু এখন পৃথিবী অনেক বদলে গেছে। এখন মানুষ অনেক কিছু চায়। কি চায় তিনি নিজেও জানে না! একাই পৃথিবীটাকে গ্রাস করতে চায়। সব কিছু আত্মকেন্দ্রিক। পৃথিবীতে যে আরও মানুষ ও জীবজন্তু আছে তাদের কথা চিন্তাই করতে পারে না। এই জন্য এখন মানবিক ও সামাজিক অবক্ষয় বেড়ে গেছে আমাদের মধ্যে। এই মানসিকতা চলতে থাকলে অবক্ষয় দিন দিন বাড়বে বৈ কমবে না। আমাদের বুঝতে হবে যে, পৃথিবীটা একার নয়, পৃথিবীটা আমাদের সবার। এই বোধটা যতদিন না আসবে তত দিন আমাদের মুক্তি নেই।
আমাদের যা আছে তা নিয়েই আমাদের পরিতৃপ্ত থাকতে হবে। সামান্যেই আমাদের আত্মতৃপ্তি হওয়া দরকার। অলীক কিছু চাওয়া থেকে আমাদের জীবনে পতন ঘটে।
Comments (16)