ছেলেবেলার কতগুলো ভালো অভ্যাস
বর্তমানে ঢাকায় অবস্থান করলেও ছেলেবেলায় আমি গ্রামেই বড় হয়েছি। অর্থাৎ বলা যায়, আমার মূল গ্রামেই প্রোথিত। ছেলেবেলায় অনেক কিছু করেছি যা আমাদের মনকে প্রশান্তিতে রেখেছে। এর মধ্যে একটি হল মালা প্রার্থনা। সত্তর ও আশির দশকে গ্রামের সকল বাড়ীতে মালা প্রার্থনা করা হতো। বাড়ীর সবাই দিনের কাজ শেষ করে উঠানে (দুয়ার) এই মালা প্রার্থনা করতো। যেন একটা উৎসব উৎসব ভাব। কাকা-কাকিরা সন্ধ্যো হওয়ার আগেই বাইবেল নিয়ে প্রস্তুত থাকতো প্রার্থনা করার জন্য। বাড়ীর পাশ দিয়ে কোন লোক হেঁটে গেলে বুঝতে পারতো যে প্রার্থনা হচ্ছে। প্রার্থনা শেষ হওয়ার পর শুরু হত সেলাম করার পর্ব । তখন একটা প্রতিযোগিতার মত মনে হত। কে কার আগে বড়দের নিকট থেকে আর্শীবাদ নিতে পারে, এই প্রতিযোগিতা। আমি হলফ করে বলতে পারি, এই মালা প্রার্থনা আমাদের মনকে অনেক অনেক প্রশস্ত করেছে। মনের কালিমাগুলো দূর করেছে। এর ফলে আগে তেমন ঝগড়া-বিবাদ সমাজের মধ্যে ছিলো না। আগের মানুষের মনে তেমন কোন কুটিলতাই ছিলো না, আমি মনে করি এগুলো প্রার্থনারই ফল। আগের দিনের প্রার্থনা আমার খুবই ভালো লাগতো। আমার মনকে ছুঁয়ে যেত। নি:সন্দেহে মনকে পবিত্র করতো। মালা প্রার্থনা মানুষের মনকে পরিশুদ্ধ করে। খারাপ কাজ করা থেকে মনকে বিরত রাখে।
এখন মানুষের মধ্যে মালা প্রার্থনা করার প্রবনতা কমে গেছে। এখন গ্রামে হাঁটাহাঁটি করলে মালা প্রার্থনার শব্দ ভেসে আসে না। মানুষ এখন এতো ব্যস্ত যে মালা প্রার্থনা করার সময় পান না। এজন্যই সমাজে অবক্ষয় নেমে এসেছে। নিয়মিত মালা প্রার্থনা না করলে সমাজে আরও অশান্তি নেমে আবসে যা নি:সন্দেহে বলা যায়।
-স্বপন রোজারিও, ঢাকা, ৯ আগষ্ট, ২০২০
Comments (9)