-দত্ত বাবু বাথরুমে এতোক্ষণ কী করেন?
-কাব্য লিখি
-বলেন কি? বাথরুমে ক্যান?
-অভ্যাস। বউয়ের যন্ত্রণায় বাসায় এই কাজ করতে হয় তো। এখানে অভ্যাসবশঃ তা-ই করলাম।
দত্ত বাবু পাশের ফ্ল্যাটে থাকেন পরিবার নিয়ে। কবি মানুষ। কবিতা লিখেছেন প্রচুর। ছাপা হয়েছে বেশ। কিন্তু ঐ একটা সমস্যা বাসায় কবিতা লিখতে পারেন না।বউ খুব ঝামেলা করে।বকাঝকা করে।
-দত্ত দা বউদি কি বলেন?
-তার ধারণা কবিরা উদাসিন, সংসারে মন নেই, বাজার-ঘাটের চিন্তা নেই, দিনভর নাকি ধ্যান ধরে বসে থাকি! আরে মশাই শুধু কি তাই! বলে প্রেম যারা করে তারাই কবিতা লিখে। প্রেম ছাড়া না কি কবিতা হয় না। কি মুশকিল বলেন তো? জীবনে কোন মেয়ের দিকে তাকাবার সাহস যার ছিল না, সে করবে প্রেম? আর লিখবে কবিতা? একেই বলে কপাল।এক্চাইলাম কি? আর পেলাম কি? আফসোস!
-দাদা আফসোস পরে করেন। আর কি বলেন?
-পেটে পেটে ভাত নাই, ব্যাটার পেট ভরা কবিতা আছে?
-হা হা হা
-হেসো না ভায়া। সেদিন জানো কি হলো?
-কি হলো?
-গেছি বাজারে। বাজার শেষ। বাজারের বিরাট রিসিটের অপ্র পাতায় লিখে ফেললাম একটি প্রেমের কবিতা। মনে ছিলনা। বাজার দিলাম বউয়ের হাতে। রিসিট দেখতে চাইল, দিয়ে দিলাম। কিছুক্ষণ পরে চেঁচামেচি। বাপরে মনে হলো কেউ ডালে বাগার দিচ্ছে। সে কবিতাটি দেখে ফেলেছে।
-দাদা পড়বি তো পড়বি, একেবারে মালির ঘারে। তারপর কি হলো?
-কবিতা লেখা বন। ভরে তাই বাথরুমে গিয়ে টয়লেট টিস্যু পেপারে কবিতা লিখি।
-তাইলে তো আপনি বাথরুম কবি?
- বাথরুম সিংগার হতে পারলে অবশ্যাঐ বাথরুম কবিও তো হতে পারে!
দাদা বউকে ভয় পান কেন?
-জানি না।

এমন সময় বাইরে চিতকার চেঁচামেচি। বলি হেগা , আ;মরণ, মরলে নাকি? ও রুশুর বাপ।
-দেখেছ ভায়া, আমাকে ছাড়া একদন্ডও থাকতে পারে। আঃ কি ভালোবাসা।
-দাদা তাড়াতাড়ি যান। না জানি কপালে কি আছে আপনার!

এই তো গেল দত্ত দা'র কাহিনি। কিন্তু আমার কাহিণী কি কেউ  শোনার আছে?
অভি, সালমান ভাই,রাসেল, দাদা ভাই, রোদ ভাই, ডাঃ প্রবীর দা,সাদিক, নাহিদ, জসিম আছো তো তোমরা???

০৯/২৩/২০১৩