ছোট গল্প: কলঙ্কিনী
শূন্য হৃদয়
শূন্য হৃদয়
লিমি: এখনকার ছেলেরা খুব খারাপ। মেয়ে মানুষকে সন্মান করতে জানে না।
টেপা: কেন, কি হয়েছে?
লিমি: একছোকরা আমাকে বলে আমার নাকি একাধিক বয়ফ্রেন্ড, একাধীক স্বামী। তাই আমাকে ঘৃণা করে।
টেপা: ও ঐ ছোরার কথা বলছ, ওতো বোকা, অভিগ্যতা বুঝেনা।
লিমি: আসলে মনে হয় ছেলেটা হিজরা।
টেপা: কী করে বুঝলে?
লিমি: প্রতিদিন তার সামনে যেতাম। শুধু চেয়ে চেয়ে দেখত, সুযোগ দিলেও ছুঁতো না।
টেপা: আরে বাদ দাও। ঐ শালা একটা বলদ।
লিমি: ঠিক বলেছো। বিয়ে করার ঝামেলা ছাড়াই রেডি জিনিষ যে হাত ছাড়া করে, তাই একটা মস্ত বোকা ছাড়া কিছুনা। কিন্তু ও দেখা হলে ঘৃণার চোখে তাকায় তাতো আমার ভাল লাগেনা।
টেপা: দাঁড়াও ওর বারটা বাজাচ্ছি। ওর বড় ভাইয়ের সামনে গিয়ে তুমি শুধু কাঁদবা বাঁকীটা যা বলার আমি বলব।
টেপা লিমিকে নিয়ে ছোকড়ার বড় ভায়ের কাছে গেল। লিমি কাঁদতে লাগল।
বড় ভাই: কি হয়েছে?
টেপা: আপনার ছোট ভাই, গত রাতে লিমিকে অপমান করেছে। ওর ফেসবুকে যাতা কমেন্ট করেছে।
বড় ভাই: তুমি কী ছোট ভায়ের সাথে কথা বল?
লিমি: না মানে, কমেন্ট করার পর ফোন করেছিলাম, আমাকে ঘৃণা করে বলেছে। আমার নাকি একাধীক স্বামী থাকার পরও একাধীক বয় ফ্রেন্ড রেখেছি। আবার বলে টেপা নাকি আমার পার্টনার.... আমি নাকি এতো মানুষ নিয়ে খুব সুখে আছি.....হুঁ হুঁ হুঁ
টেপা লিমিকে অন্য ঘরে পাঠিয়ে দিয়ে বলে, শুনেন বড় ভাই! মেয়েটা খুব অসহায়। ওর বিয়ে হয়েছে ঠিকই কিন্তু কোন স্বামীকে নিয়ে সুখী নয়। আমি যতটা পারি ওকে আনন্দে রাখার চেষ্টা করি। একাধীক ছেলের সাথে মিশে যদি ভাল থাকে তাতে আপনার ভাইয়ের কী? এ নিয়ে অপমান করার কী আছে?
বড় ভাই: আচ্ছা ঠিক আছে আমি কথা দিলাম, ছোট ভাই আর কিছু বলবে না। আর কোন ডিষ্ট্রাব করবে না। তোমরা তোমাদের মতো থাকো। ছোট ভাই ওর নিজের মতো থাক।
টেপা বড় ভাইয়ের কাছ থেকে চলে এসে লিমির সাথে চাইনিজে বসল।
লিমি: কোন কাজই হলো না। ছোকরাটার তো কোন ক্ষতি করা গেল না। এভাবে ছেড়ে দেওয়া যায় না। কি করা যায় বল তো?
টেপা: কিছুদিন যাক, সব ঠিক হয়ে যাবে। ছোকরা তোমার প্রেমে পরবেই। তারপর কঠিন কিছু করা যাবে। তুমি যেভাবে পার ওকে কোন নির্জন ঘরে যদি ছলে বলে কৌশলে নিয়ে যেতে পার। তাহলেই বিশাল অপমান করা যাবে।
লিমি: ওকে।
বলে যে যার বাড়ি চলেগেল। এসব আলাপ চারিতা চাইনিজ বয় সব শুনে ছোকরার বড় ভাইকে জানিয়ে দিল।
বড় ভাই ছোট ভাইকে ডেকে অনেক বকাবকি করল।
বড় ভাই: ছি ছি ছি..... আমি ভাবতেও পারছিনা, আমার ছোট ভাই একটা নোংড়া মেয়ের সাথে সম্পর্ক করেছিল!!
ছোট ভাই: না ভাইয়া। আমি কোন সম্পর্ক করিনি। করলে আপনার কাছে বিচার আসত না। বরং বন্ধুত্ব হয়েছিল, আমি তা ভেংগে দিয়েছি...
বড় ভাই: আচ্ছা যা হবার হয়ছে, আর যেন কখনো ওর সাথে কথা বলতে না দেখি।
ছোট ভাই: কথা বলা তো দূরে থাক, এখন ওকে দেখলেই আমার ঘৃণা লাগে।
বড় ভাই: আচ্ছা দেখা যাবে, এই ঘৃণা কত দিন থাকে।
ছোট ভাই: শুধু ওই ছুরিই না। এখন যে কোন মেয়ে দেখলেই আমার ঘৃণা হয়। মেয়েরা যে এতো নোংড়া আগে জানতাম না।
বড় ভাই : ওকে ওকে। আমার মান সন্মান তো সব ডুবাছিস। তোকে নিয়ে আমার কতো স্বপ্ন.... এখন তো তোকে ভরসাই করতে পারছি না। আমার চেনা অচেনা এঘটনা অনেকই জেনে গেছে যে তুই নাকি ওর সাথে প্রেম করতে চেয়েছিস। ও নিষেধ করা সত্বেও তুই নাকি বার বার বিরক্ত করিস। ছি ছি ছি আমি মানুষকে মুখ দেখাব কি করে?
এসব মেয়েলি বিষয়ে সবাই মেয়ের কথায় বিশ্বাস করে। আসল ঘটনা কেউ শুনতেও চায় না।
ছোট ভাই: ওকে সরি ভাইয়া। তাহলে আমি আর আপনার বাসায় আসবনা। এই এলাকায় এলে ঐ নোংড়া মেয়ের সাথে দেখা হবে, তা আমি চাইনা। আমি নাহয় খুলনা চলে যাই। ওইখানে কিছু একটা করি।
বড় ভাই: তুই আসলেই গাঁধা। দেশে গিয়ে কী করবি? আর এখন যদি চলে যাস সবাই ভাববে দোষটা তোরই ছিল। তুই প্রতিদিন আসবি। কিন্তু ওর মুখের দিকে তাকাবি না। ভাববি ওটা একটা গুয়ের ডিব্বা। আর সাবধানে থাকবি। ওর কোন ফোন ধরবি না। ফেসবুক থেকে ব্লক মারবি।
ছোট ভাই, ভাইয়ের কথা মতো সব করল। মোবাইল থেকে লিমির দেওয়া সব ভিডিও, ছবি, মেসেজ, ফোন কলের রেকর্ডিং সব ভাইকে দিখিয়ে ডিলেট করে দিল। হঠাৎ ভাইয়ের সামনেই একটা অচেনা নাম্বার থেকে ফোন এলো। রিসিভ করে দেখে লিমির এক বয় ফ্রেন্ড ওদের ঝামেলার বিষয়ে জানতে চাচ্ছে। ছোট ভাই সরি বলে কেটে দিল। বড় ভাই ফোনটা অফ রাখতে বললেন। কারণ কথা বলতে গিয়ে কোন একটা ভুল থেকে দু’কথা হয়ে আবার নতুন ঝামেলা হতে পারে। বড় ভাই বলে দিলেন আজ থেকে কোন চেনা মানুষ ছাড়া আর কারো সাথে ফোনে কোন কথা হবেনা।
ছোট ভাই মাথা নিচু করে ভাইয়ের বাসা থেকে বেরিয়ে নিজের ফ্ল্যাটের দিকে রওনা হলো।
পথের মাঝে লেখক বন্ধু সাথে দেখা হলো। বন্ধুকে পেয়ে সব গল্প একে একে বলল।
বন্ধু বলল- তুই কিভাবে জানলি মেয়ের এরকম নোংড়া অতিতের কথা? মেয়েটা নিজে বলেছে?
: আরে আমি তো কিছুই জানতাম না। মেয়েটাকে অনেক বার জিজ্ঞেস করছি। মেয়েটা বলে সে নাকি এই পৃথিবীতে একা।
বন্ধু: তাহলে?
: ঐ চাইনিজ রেস্তরার বয় আমার পরিচিত। তার মুখেই সব শুনেছি। মেয়েটা ঐ চাইনিজে প্রায়ই যায়, বিভিন্ন ছেলের সাথে। ঐ বিল্ডিংয়ের তিনতলায় তো আবার আবাসিক হোটেল। ও নাকি ঐ হোটেলের বান্ধা কাষ্টমার। যেদিন সব শুনলাম সেই রাতেই ও ফোন করেছিল। আমি জিজ্ঞেস করতেই চেতে উঠল। আমার সাথে অনেক তর্কাতর্কি হলো। শেষে ওর কথাথেই সব বেরিয়ে এলো। আমিও রাগ করে বলেছি "তোর মতো নোংড়া মানুষের সাথে কোন সম্পর্ক রাখা সম্ভব নয়! তোক এখন দেখলেও ঘৃণা হয়......"!!
বন্ধু -তুই চিন্তা করিস না। আমার আল্লাই করবে তাহার বিচার।
বন্ধু পুরা গল্প শুনে বলল এর প্রতিশোধ তোকে নিতে হবে না। ওর সাথে ফেসবুকে আমারও বন্ধুত্ব আছে। আমি ভিন্ন স্ট্যাটাসের মাধ্যমে ওর বিরুদ্ধে লিখব। তুই একটা ফেক একাউন্ট খুলে আমার পেইজে লিখতে পারিস। আমার পেইজের লেখা প্রায় সবাই পড়ে। তখন সবাই বুঝবে দোষটা কার ছিল। আর এটা নিয়ে কষ্ট পাসনা। জীবনে তো কম দেখলাম না। এখনকার মেয়েদের চরিত্র এমনই। এরা অন্যকে ডুবাতে প্রয়োজনে নিজেও পোঁচা পুকুরে নামতে রাজি। অন্যেরর উপর দোষ চাপাতে যে কোন নোংড়া কাজ করতেও দ্বিধা করে না। মাঝে মাঝে মনে হয় -"আমার মা বোন যদি নারী না হতেন, আমি ইতিহাসের পাতায় পাতায় লিখে দিতাম নারীরা কলঙ্কিনী!"
(গল্পটার চরিত্রগুলো কাল্পনিক। তবে আমাদের সমাজে এমন নানান নোংড়া গল্প ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে চারদিকে। শুধু মাত্র সেসব নোংড়ামী তুলে ধরে বন্ধুদের সতর্ক করাই এই রচনার মূল উদ্দেশ্য। তবু নাম বা রচনার কোন অংশ কারো জীবনের সাথে মিলে যায়। ক্ষমা করবেন। আপনি যদি কাউকে সতর্ক করতে চান, তবে লাইক, কমেন্ট এবং শেয়ার করতে পারেন। কপি পেষ্ট অবৈধ এবং দন্ডনিয় অপরাধ। #শূন্য_হৃদয়)
Comments (8)