ইমারতে ইসলামিয়ার আজ ৫ বছর পূর্তি।
সন্ধ্যার পরপরই সমস্ত হেরাতে মৃদঙ্গের ঝলকানি। আতশবাজির আলোকসজ্জায় মনে হচ্ছে কোনো তরুণী স্বামীগৃহে যাত্রা করতে যাচ্ছে এত আয়োজনের মধ্য দিয়ে।
রাত্রিরেই জয়নবের শারীরিক লক্ষণ দেখে বুঝা গেল সে সন্তানসম্ভবা। সমস্ত হেরাতে যেন আজ নতুন মাহতাব উদয় হয়েছে। খুশিতে দিলওয়ার বেলুচে খোরমা, খেজুর বিলিয়েছে। সবাই উচ্ছ্বসিত, দিলওয়ার বুঝি পুত্র সন্তানের জনক হতে চলেছেন।
স্ত্রীর সমস্ত যত্নে দিলওয়ারের কোনো কমতি নেই। সবাই যেন বেদিতে দেবীকে অর্ঘ্য নিবেদনের অপেক্ষায় আগ্রহরত। বসন্তের শেষ শবে জুমার রাত্রিতে জয়নাবের কোল জুড়ে আসলো এক পুত্রসন্তান। দিলওয়ার গোলাপের মতো উজ্জ্বল চেহারার সৌন্দর্য দেখে ভালোবেসে নাম রাখলেন গুলজার।
হেরাতের শুষ্ক আবহাওয়া ও বন্ধুর পর্বতমালার সঙ্গে অভিযোজন করেই গুলজারের বেড়ে উঠা।
বেলুচদের নিয়ম অনুযায়ী প্রাথমিক শিক্ষার জন্য গুলজারকে পাঠানো হয় মাদ্রাসা ই দিওয়ানে হাফিজে।
মাতৃকোলের আঁচল অতিক্রম করে তাকে দিয়ে আসা হলো মাদ্রাসার মুহতামিম আহমাদ শিরাজির কাছে। আনোয়ার শাহের বাল্য বন্ধু সে। পরিচয়ের লেশমাত্র গুলজারের আদর যত্নের কোনো কমতি হবে না মনে হচ্ছে।
মাদ্রাসার সব তালেবে ইলমদের মধ্যে পরিচয়পর্ব শেষ হওয়ার পর গুলজারের দায়িত্ব দেওয়া হয় শ্রেণি শিক্ষক ইরফান সোহরাবকে।
ফিরোজকোহ থেকে সে চাকরিসূত্রে এখানে এসেছে। মাদ্রাসার আবাসিক শিক্ষার্থীদের একাংশের সব দেখভাল তার তত্ত্বাবধানে।
দিলওয়ারের নতুন পরিবেশে অনভ্যস্ততা তাকে বেলুচের স্মৃতি বারবার মনে করে দিতে থাকে।
যে শৈশব ওড়াবার, বেলুচের বন্ধুর ভূমি পায়চারি করার, সে বয়সে মাতাপিতা তাকে শিক্ষাঙ্গণে পাঠিয়েছেন।
তবুও তার আগ্রহ সে পড়াশোনায় মনোযোগী হবে।
গুলজারের শারীরিক গঠন ও সুস্বাস্থ্যের দিক চিন্তা করলে আর দশজন থেকে আলাদা করে তাকে চিহ্নিত করা যায় সহজেই।
পিতামহের ঐশ্বর্য ও অর্থনৈতিক সচ্ছলতা তার শুভ্র চর্মের মধ্যেই যেন ফুটে উঠছে। সবার আকর্ষণের জায়গা যেন গুলজার।

Comments (0)
No comments yet. Be the first to comment.