"আকাশটা স্বচ্ছ সফেদ তুলার মতো উড়ছিল
চারিদিকে নিরব যুদ্ধের আয়োজন
ক্রমশ বারুদের ঘ্রাণে
যেন নবীন কিশোরের আর্তনাদ।
তার ভীড়ে সহসায় ঐ দেখো
কোন তরুণীর অভিমানে
রক্তিম হয়ে ফেটে গেছে ডালিমের দানা হায়।
বারাণস, দেখো তোমার অন্তরীক্ষের উপর দিকশূণ্য হয়ে ঘুরে বেড়ায় এক গাঙচিল
গোধূলির লালের ভীড়ে তুমি তার মতো কোথায় যেতে চাও বলো।
উত্তাল জলকনাগুলো কোন সে সাইমুমে এতো
চঞ্চলতা দেখাচ্ছে।
চারিদিকে পানি
তোমার হাতে মূল্যবান সুপেয় পানি
অথচ দেখো কোন সে তৃষ্ণায় ফেটে যাচ্ছে চিবুক।
দিলরুবা, তুমি তার কতটুকু দেখেছো?"".................
সাফুয়ান চেলেবির শের অনুবাদ করে আয়েশাকে শুনাচ্ছিল শবনম মুস্তারি।
সবাই মিলে বেশ উপভোগ করছে সন্ধ্যার এই সময়টা।
শবনম মুস্তারির ফুপাতো বোন হেলেনা মুস্তারি ।
শহরে এসেছে ভর্তি পরীক্ষার সুবাদে শবনম মুস্তারির এখানে এক রাত্রে থাকার উদ্দেশ্যে।
তাহারে দেখে বাঙালি মনেই হয়না।
বাঙালির গায়ের যে গড়ন,রং, স্বাস্থ্যের, মুখের প্রতিচ্ছবি, কেশরাজি কোনোটাই দেখেই বুঝার উপায় নেই সে যে বঙ্গদেশের।
মনে হয় তার পূর্বপুরুষদের কেউ তুরস্ক বা ইয়েমেন থেকে এদেশে এসেছিলেন কোনো কিছুর অভিপ্রায়।
ভুলক্রমে বাঙালিদের সঙ্গে থেকে গেছে আত্মীয়তার সূত্রে। তাহার উচ্চতা,গায়ের রং পোশাকেও রয়েছে ভিন্নতা।
রংবেরঙের কাফতানে তার সঙ্গে মানানসই সোনালী চুল আলাদা নান্দনিকতা তৈরি করেছে।
আয়েশার তাকে নিয়ে বেশ কৌতূহল।
আলাপচারিতায় বেশ সহজেই বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক হয়ে গেল তাদের দুজনের।
শের শুনে আয়েশা আর শবনম মুস্তারি ছাড়া আর কেউই উপলব্ধি করতে পেরেছে বলে মনে হয়না।
তা হেলেনার অট্টহাসিই জানান দিছে ক্রমশ।
হেলেনার হাসি শুনে ক্রীতদাসের হাসির কথা মনে পড়ে গেল। যে হাসির কারণে তাতারীকে প্রাণদণ্ড দিতে হয়েছিল। আহ মেহেরজান।
জীবন যেখানে যেমন।
Comments (0)
No comments yet. Be the first to comment.