যান্ত্রিক এই শহরে আমার নিষ্প্রাণ ছুটে চলা, থেমে থাকেনি কখনো মাঝে মাঝে মনে হয়েছে আমিও বুঝি যান্ত্রিক হয়ে উঠেছে। প্রতিদিন একই রুটিন মাঝে মাঝে ভুলে যায় সকালের নাস্তাটা। কখন যে দুপুর গড়িয়ে আসে সেটা পেটের টানে বুঝতে পারি।

কখনো কখনো ভুলে যাই আমি স্বাধীন,
কখনো কখনো ভুলে যাই আমি জীবিত।

সেই সকাল থেকে শুরু করি কখন বিকেল শেষে সন্ধ্যা নামে তা বোঝা মুশকিল।

তবু কিছু লোক বলে- 'ভালো দিন যাচ্ছে তোমার'

কাজের টেবিলে বসে শুনি মেঘের গর্জন, কিন্তু বৃষ্টি দেখার সুযোগটা এখন আর হয় না। বৃষ্টি স্নান করতে ইচ্ছে করে অনেক কিন্তু সে সুযোগটা আমি পাইনা।

কাজ শেষে যখন বাইরে বেরোয় তখন দিনের আলোয় শেষ, নিয়ন আলোয় ছেয়ে গেছে ফুতপাত।

এখন আমার বাড়ি ফেরার পালা। অনেক কষ্টে যুদ্ধ করে উঠে যায় বাসে, বসার সৌভাগ্যটা আমার খুব একটা হয় না। এরপর শুরু হয়ে যায় যানজট থেমে গেছে চাকা, মনে হয় যেন আমরা এক জড়োবস্তুতে পরিণত হয়েছি।

শত বাধা পেরিয়ে বাসায় ফিরি হাতে একখানা বাজারের ব্যাগ নিয়ে, কিছু চুপসে যাওয়া সবজি, অর্থ পচা মাছ। ঘড়িতে তখন ১০ টা বেজে গেছে। খাওয়া শেষ করে ঘুমোতে যাবার পালা। ঘড়ির দিকে চেয়ে দেখি রাত সারে বারটা।

আবার আমায় ছয়টায় উঠতে হবে নতুন দিনের শুরুটা যে আবার করতে হবে।