এভাবেই শেখা
আমি যখন প্রথম লেখার জগতে পা রাখি তখন কি লিখতাম আমি নিজেও জানি না। তবু গেঁথে যেতাম আবোল তাবোল কিছু শব্দ মালা।ডায়রির পাতা উল্টে এখন যখন সেগুলো দেখি মনের অজান্তেই হেসে উঠি।যখন বিডিয়ার বিদ্রহ হয় তার মাত্র ক’দিন আগে কবিতায় দিয়েছি হাতে খড়ি। ইচ্ছে হলো বিডিয়ারদের নিয়ে একটা অন্তমিলের কবিতা লিখব লিখেও ফেললাম ক’কলম।মাত্রা কি, ছন্দ কি, এসব কিছুই জানতাম না। নতুন লিখছি তাই কোনো সাহিত্য আসর তখন মিস করতাম না।যথারিতি আসরে গেলাম সেদিন আমার লেখাটার আলোচনার ভার পড়লো এক ভদ্র মহিলার উপর।তিনি মাইক্রফোনের সামনে এসেই প্রথমে আমার কবিতাটির মন্তব্য করলেই।মন্তব্য করলেন এ ভাবন-(শাহানাজ সুলতানার মাত্র জ্ঞান নাই যার মাত্র জ্ঞান নাই তার কবিতার কি আলোচনা করব।) বলে কবিতাটি ছুড়ে ফেলে দিনেন। পেছনে ৪০ জন।অপমানে ইচ্ছে হয়েছিলো লেখা ছেড়ে দিতে।কিন্তু না আমি সেটা করলাম না আমি প্রতিজ্ঞা করলাম মাত্রা কি ছন্দ কি আগে সেটা আমাকে জানতে হবে।তারপর আজ যিনি আমাকে এত মানুষের মাঝে অপমান করলেন কাল তার জবাব দিতে হবে।কাল সে ফুল দিয়ে বরণ করতে হবে আমাকে।আমি বাসায় এসে অনেকগুলো বই নিয়ে বসলাম এবং পড়তে থাকলাম খুঁজতে থাকলাম আসলে মাত্রা কি?কয়েকটা বই পড়ে পেয়ে গেলাম ধারণা।মাত্র একমাসের মাথায় একুশের বইমেলায় একটা কবিতা পড়লাম।কবিতাটি শুনে সেই ভদ্র মহিলা উঠে দাঁড়ালেন।মঞ্চ থেকে নামতেইতিনি এগিয়ে গিয়ে হাত ধরে বললেন আপা আপনি তো খুব সুন্দর লেখান? আসরে আশেন না কেন?আমি কোনো উত্তর করলাম না শুধু মনে মনে বললাম ধন্যবাদ তোমাকে। হয় তো তুমি ভুলে গেছ সেদিনের কথা কিন্তু আমি ভুলিনি। আর এটাই ছিলো আমার প্রথিজ্ঞা তোমার জন্য আমি আমার ভুল শুধরে নিতে পেরেছি। সেদিন যদিও প্রচন্ড অপমানে লেগেছিল।আর তাই হয় তো আজ শিখতে পেরেছি, ভালো কিছু লিখতে পারেছি। তোমাকে আমারও অসংখ্য ধন্যবাদ।
Comments (12)