মৃম্ময়ী, তোমায় নিয়ে হয়ে যাব গৃহহীন, যাযাবর।
তুমি দেখে নিয়ো—
আমাদের কোন বসতির প্রয়োজন পড়বে না;
এমনকি কোন গৃহসামগ্রীরও।

আমরা দু'জন হাত ধরাধরি করে
ব্যস্ত নাগরিক জীবনের অনুষঙ্গ—
প্রাকৃতিক পরিবেশ-বিপর্যয়,
আবহাওয়ার উষ্ণায়ন এবং
সম্ভাব্য ভূমিকম্প-প্রবণ মৃত্যু-উপত্যকা
ছেড়ে চলে যাবো বহুদূরে।
পরিযায়ী পাখিদের মতো ঘুরে বেড়াবো ওশেনিয়া, ইন্দোনেশিয়া, জাভা, সুমাত্রা
আলাস্কা, সাইপ্রাস, সাইবেরিয়া
অথবা সুন্দরবনের অভয়ারণ্যে।
নির্জন কোলাহলমুক্ত আকাশের নিচে
ঘন সবুজ স্নিগ্ধ ঘাসের ওপর
শুয়ে থাকব আমি;
আর তুমি আমার বুকে নিবিড়ালিঙ্গনাবদ্ধ।

একটু অনুভব কর—
আমাদের কোন পানাহারের
প্রয়োজন অনুভূত হবে না;
এমনকি বস্ত্রাভাবও।
ক্ষুধা পেলে তোমার গোলাপ-পাপড়ির মতো
মসৃণ মায়াবী চোখের চাহনি খাবো।
অপ্সরীতুল্য নিপুণ কারুকার্যময়
রক্তিম ঠোঁটের চুমু খাবো; কথা খাবো।
খুব যদি নেশা জাগে তোমার বুকের
আল্প্‌স্‌ পর্বতের শুভ্র জলের আধারে
মুখ রাখতে দেবে না তুমি?

তোমার শরীরে আমিই হবো একমাত্র পরিধেয়—
তোমার হাতে আমার হাতের বন্ধন
চোখে চোখের ইশারা
ঠোঁটে ঠোঁটের কাঁপুনি...
অবিন্যস্ত চুলে পাঁচ আঙুলের আলোড়ন—বুকে তপ্ত শ্বাস।
শরীরের ভাঁজে, ঊরু-জঙ্ঘায়—ওষ্ঠের নিষ্পেষণে
শিহরিত শীৎকারে পূর্ণতা পাবে
উথাল-পাথাল যৌবনসুখ।
এভাবে যুগলস্নানে কাটিয়ে দেব জন্ম-জন্মান্তর....