১)
সব রাজার ঘরেই কুলাঙ্গার জন্মায়। সেই প্রকৃত রাজা, যিনি সেই কুলাঙ্গারকে সাজা দেন। রাজার যদি সাজা দিতে না জানেন, তাহলে তিনি মিথ্যে মজা। এমন নয় যে কোনো এক রাজার রাজত্বে অপরাধ বেশি ঘটছে। অপরাধ সব রাজার রাজত্বে একই ঘটে কিন্তু যদি অপরাধী বেশি ধরা পড়ে, তাহলে তো মনে হবেই যে অপরাধ বেশি হচ্ছে। যে রাজা অন্যায়কে প্রশ্রয় দেন না, সেই রাজার রাজত্বে অপরাধী বেশি ধরা পড়ে, এবং সেই রাজাকে প্রজাদের কাছে অনেক কৈফিয়ৎ দিতে হয়। যে রাজা প্রজাদের কাছে বেশি কৈফিয়ৎ দেন, সেই রাজা রাজতন্ত্রে বিশ্বাস করেন না, বিশ্বাস করেন প্রজাতন্ত্রে। সেই রাজা তার বিরুদ্ধে সকল আন্দোলনকে মেনে নেন, জোর করে ভয় দেখিয়ে আন্দোলন থামিয়ে দেন না। প্রজাদের সাথে বৈঠক করে সমস্যার সমাধান করেন। তার প্রশাসন প্রজাদের হাতে, তার হাতের পুতুল নয়। এটা লোক দেখানো কাজ নয়, অপরাধীকে সাজা দেওয়া গণতন্ত্রের কাজ। এমন রাজার সহজে পতন হয় না, কারণ প্রজারা তাকে ভরসা করে তার মহৎ গুণের জন্য। এমন রাজার জয় হোক।
২)
প্রত্যেক ঘরে স্বামী স্ত্রীর মধ্যে রোজ ঝগড়া হয়, তা বলে কি বিচ্ছেদ হয়ে যায়? কখনোই না। রাজার ঘরে তার কর্মচারীদের মধ্যে মতের অমিল হতেই পারে কিন্তু তা বলে রাজার ঘরে মোটেই বিচ্ছেদ ঘটবে না। মতের অমিল সর্বদা ক্ষমতা লাভের কারণে হয় না, ভুল বোঝাবুঝির জন্যই বেশি হয়। এক জায়গায় বহু লোক কাজ করলে ঝামেলা লাগতে বাধ্য। এতে রাজার ঘর ভাঙ্গে না, তার মুখও বদলায় না। স্বামী স্ত্রীর সকালে ঝগড়া, বিকেলে ভাব; বিকেলে ঝগড়া, সকালে ভাব। এতো রোজকার ভালবাসা, ঝামেলা কেন হতে যাবে! খবর তৈরি করার জন্য কেউ যদি ভালবাসাকে ঝামেলা বলে দেখায়, তাতে রাজার কি দোষ? রাজা কিন্তু কখনও কোনো সাংবাদিকের স্বাধীনতা হস্তক্ষেপ করেন না।
৩)
যে রাজা নিজের ঘরে গরীবকে ঠাঁই দেন, আর গরীবের ঘরকে নিজের ঘর ভাবেন, সেই রাজাই প্রকৃত রাজা। যিনি গরীবের বাড়িতে ভাত খান, জল পান করেন, গরীবের কান্নায় ভেঙে পড়েন, এবং দুঃখে গরীবের পাশে দাঁড়ান, তিনি মহান রাজা। তিনিই গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রের পালন পোষণ করেন। গরীব তাকে ভরসা করে। গরীবের আশীর্বাদ যার মাথায় আছে, তার মাথায় ঈশ্বরের আশীর্বাদ আছে। এর কারণ গরীবের মধ্যেই তাঁর বাস। গরীবের উন্নতিতেই তাঁর পুজো। গরীব হল গণতন্ত্রের প্রতীক। এমন রাজার ঘর চিরকাল আলোয় ভরা থাকে কারণ তিনি গরীবের রাজা।
Comments (0)
Only registered members can comment. Log in
No comments yet. Be the first to comment.