'তোমাকে দেখলে মনে হয়
আলালের ঘরের দুলাল,
বড়লোকের আদুরে ছেলে'।

ছেলেটা কথার জবাব দিল না।
একবার স্মরণ করে নিল পূর্বপুরুষদের কথা-
ওর প্রপিতামহ ছিলেন সামান্য কেরাণী:
কনিষ্ঠ সন্তানকে বেচে দিয়েছিলেন দেনার দায়ে;
জ্যেষ্ঠ সন্তান অর্থাৎ ওর পিতামহ আত্মহননের পথ বেছে নিলেন,
পারলেন না দারিদ্রের সাথে পাঞ্জা লড়তে।
বড় ছেলের মুখাগ্নি করার পর
ওর প্রপিতামহ আর বেশী দিন বাঁচেন নি।
ওর বাবা তখন দশ বছরের এক বালক-
গোটা আকাশ ভেঙে পড়লো তার কাঁধে:
কাঁপা কাঁপা হাতে পৌরোহিত্য করে পেট চালাতে লাগলেন,
সঙ্গে চললো লেখাপড়া।
ওর ঠাকুমা তখন আয়ার কাজ করতেন।
ওর বাবা এখন একজন সৎ নিম্নমধ্যবিত্ত ইস্কুল মাস্টার।

ও ভাবলো গর্জে উঠবে
কিন্তু কিছু বললো না-
বাবাকে ও যে টাকা দিয়ে সাহায্য করে,
এ কথা কেউ বিশ্বাস করবে না।
তাই চুপ করে যাওয়াই এখানে শ্রেয়।