একটা মেয়ের পেটের ভাতের কথা চিন্তা করে না সংসার-
ফুলটুসি কলকাতায় বাচ্চা সামলাবার কাজ করে।
একটু আধটু স্বচ্ছলতা মাঝে মধ্যে উঁকি মারলেও
মানসিক শান্তি মেলেনা কখনও গরীবের ঘরে।

ফুলটুসি মাইনে পায়না, পায়না দুবেলা দুমুঠো ভাত।
মার খাওয়া সয়ে গেছে তার।
কিন্তু মৃত্যু যে এভাবে আসবে সে তা বোঝেনি!
বাড়ির লোক ছোটাছুটি করেছে প্রচুর, লাভ হয়নি, কোথায় বিচার!

গরীবের কণ্ঠস্বর আইনের কানে পৌঁছায় না-
পৌঁছাবার আগে আছাড় খেয়ে মরে কাতর ভাবে-
ঠিক যেমন সমুদ্রের ঢেউ অসহায় ভাবে মাথা খোঁড়ে বোল্ডারের বুকে।
ভোটের সময় ব্যস্ত নেতা, পাড়ার দাদা এখন কী গুগলি খাবে!

এখন শুধু বনের মোষ তাড়ানো কাজ, কেউ মাছিও তাড়ায়।
বাবা বলেন, 'আর দুটো মেয়ের মুখ চেয়ে বেঁচে থাকবো'।
মা বলেন, 'হাতের বুড়ো আঙুলটা নেই'।
বোনেরা বললো, 'আমরা পেটের দায়ে এভাবে কেন মরবো'।

রোজ রোজ কত ফুলটুসি এভাবে হারিয়ে যায়।
সমাজ চোখে ঠুলি পরে বসে থাকে।
এভাবেই বয়ে যায় নদী সময়ের হাত ধরে-
ফাটল আইনেরই ফাঁকে!