প্রায় সকলেই সকলকে পায়ের তলায় রাখতে চায়। ওটা মানুষের স্বভাব। অপরকে পায়ের তলায় রাখতে পারলে মানুষ মজা পায়, অথচ মানুষ কারো পায়ের তলায় থাকতে চায় না।

খুব অল্প সংখ্যক মানুষ আছেন, যারা কারোকে শাসন বা শোষণ করেন না, নিজে শাসিত বা শোষিত হলেও। সমাজ ভাবে তারা দুর্বল। হতে পারে বড়লোকের আর্থিক শক্তির ভয়ে বহু গরীব লোক চুপ থাকে। বাঁচার তাগিদে চুপ করে থাকা। আবার গরীব গরীবকে শোষণ করে, সেটা অন্য প্রসঙ্গ।

কিন্তু সেই অল্প সংখ্যক মানুষের মধ্যে কিছু মানুষ আছেন যারা জ্ঞানী ও গুণী এবং তাদের আর্থিক অবস্থা ভালো হওয়া সত্ত্বেও, তারা অপরকে শাসন ও শোষণ করেন না। নিজেরা শাসিত বা শোষিত হলেও তারা অপরকে কখনও আঘাত করেন না। এই সকল মানুষ হলেন চিন্তাশীল। তারা নিজের ওপর দিনরাত চাবুক চালান, নিজেদের মানুষের মতো মানুষ করে তোলার জন্য। কাঁচের ঘরে থেকে তারা কখনও ঢিল ছোঁড়েন না। চিন্তাশীল মানুষকে কেউ পাগল বলে, কেউ বলে দার্শনিক। এতে চিন্তাশীল মানুষদের কিছু এসে যায় না। তারা দু কান কাটা, তবুও রাস্তার মাঝখান দিয়ে চলেন না। আরেকটা কথা এখানে বলে রাখি, চিন্তাশীল মানুষ গরীব ঘরেও জন্মায়।

কেন কোনো চিন্তাশীল মানুষ শাসন ও শোষণ করতে পারেন না? চিন্তাশীল মানুষেরা চায় তাদের শুভ চিন্তা গুলো সমাজে ছড়িয়ে পড়ুক ও সমাজের অসামাজিক কাজ গুলোকে গুপ্ত হত্যা করুক। শাসন ও শোষণ দুটোই অসামাজিক কাজ। শাসকের দরকার আছে বৈকি, কিন্তু কোনো শোষকের প্রয়োজন নেই। এখানে শাসন মানে সুব্যবস্থা। যেখানে সুব্যবস্থা নেই, সেখানে শাসনের নাম শোষণ।

চিন্তাশীল মানুষদের নানান জ্বালা। সমাজ তাদের শোষণ করে দিনরাত। প্রতিভা থাকা সত্ত্বেও তারা খুচরো লোকেদের হেনস্থার শিকার হন।

এখন প্রশ্ন উঠতে পারে, যাদের ব্যবহার ভাল, তারা সকলেই কি চিন্তাশীল হন? আমি বলি হ্যাঁ। এর কারণ অপরকে অসম্মান করা মানে নিজেকে অসম্মান করা। অপরের মধ্যে তারা নিজেদের স্বরূপ দেখতে পান এবং নিজেদের মধ্যে দেখেন অপরের অস্তিত্ব। এই ধারণাটা গভীর। এই ধারণাকে যারা বাস্তবে রূপ দেন, তারা অবশ্যই চিন্তাশীল ব্যক্তি। প্রত্যেক চিন্তাশীল ব্যক্তি একজন ভালো মানুষ হন। ভালো মানুষ তারাই, যারা ষড়রিপু গুলোকে নিজেদের বশে রাখেন। চিন্তাশীল মানুষ ছাড়া এ কাজ কেউ করতে পারেন না।

আপনার ব্যবহার আপনার পরিচয়। আপনার চিন্তা আপনার পরিচয়।