মানুষের দুর্দশার কথা ব্যাখ্যা করা যাক।

এই ব্যাখ্যায় আসার আগে দুটো প্রশ্ন করি। কারা জনপদ তৈরি করেন? আর ভেসে যায় কারা? একটা জনপদ কোথায় গড়ে উঠবে, কীভাবে গড়ে উঠবে, কখন গড়ে উঠবে, তা ঠিক করেন একদল লোক- কারা তা আমরা খুব ভালো ভাবেই জানি, আলাদা করে বলার কোনো প্রয়োজন নেই। এনারা উঁচু তলার মানুষ, তাই এনারা ভুল করতেই পারেন না। এনাদের সব পরিকল্পনা সঠিক, সকল নকশা সঠিক। এনাদের ভুল বলা যাবে না। ভুল তাদের, যারা এনাদের শিকার। অর্থাৎ যারা এনাদের পাতা ফাঁদে পা দেয়- যারা বাঁচার তাগিদে সেই জনপদে বসবাস করতে যায়। তাদের হাতে আর কোনো উপায়ও নেই। তারা সাধারণ মানুষ। ধরুন, নদীর পথ আটকে যদি কোনো জনপদ গড়ে ওঠে আর নদী সেই জনপদ ভাসিয়ে নিয়ে যায়, তাহলে প্রশ্ন উঠতেই পারে- দোষ করলো কারা আর দোষের ফল ভোগ করলো কারা? যাদের ভেসে যাওয়ার কথা নয়, তারা তো ভেসে গেছেন কিন্তু যাদের ভেসে যাওয়ার কথা ছিল, তারা কেবল ভাষণ দিয়ে চলেছেন। যাদের ভেসে যাওয়ার কথা নয়, অথচ ভেসে গেলেন, তারা কি পাপ করেছিলেন? যাদের ভেসে যাওয়ার কথা, তারা কি পুণ্য করেছে যে বেঁচে রইল? এই প্রশ্ন গুলোর উত্তর আমার কাছে নেই। আপনাদের কাছে কি আছে?

এবার তাদের কথায় আসি, যারা বেড়াতে গেছিলেন। তাদের কি দোষ? পাপ করলো একদল আর শাস্তি পেলেন আরেক দল! মানুষের ভুলের মাশুল মানুষকে গুণতে হয়েছে, এ কথা আমি আগেই বলেছি। কিন্তু কাদের ভুলের মাশুল কাদের গুণতে হল, এই প্রশ্নের উত্তর তো আমি দিই নি। মালদার যদি কোনো গ্রাম ভেসে যায়, তাহলে গ্রামবাসীর কোনো দোষ নেই, অন্য কারো পাপের বোঝা গ্রামবাসী বয়ে বেড়ায়। পর্যটকের দল কাদের পাপের শাস্তি পেলেন? কাছের মানুষ মারা গেলে এক রকম যন্ত্রণা আর কাছের মানুষ বেঁচে আছেন না মারা গেছেন- সেই প্রশ্নের উত্তরের জন্য অপেক্ষা করা আরেক রকমের যন্ত্রণা। পর্যটকদের আত্মীয়রা কি দোষ করেছিলেন? এনাদের মধ্যে কি কেউ কোনো পরিকল্পনা বা নকশা তৈরি করেছিলেন?

সাধারণ মানুষ বাঁচার তাগিদে ছাদ খোঁজে, মুক্তির তাগিদে বেড়াতে যায়। এতে তাদের কি দোষ? ছাদ বানাবার জায়গা যে সব অসাধারণ মানুষেরা জঙ্গল কেটে বা নদীর পথ আটকে দখল করে, তারাই তো দুর্ঘটনার কারিগর। ভ্রমণের সময় দুর্ঘটনা ঘটতেই পারে, কিন্তু অসাধারণ লোকেদের ভুলের মাশুল সাধারণ মানুষকে গুণতে হবে কেন? যেখানে পদে পদে বিপদ, সেখানে না যাওয়াই ভালো- প্রাণের থেকে বড় মায়া আর কি হতে পারে!

সবশেষে বলে রাখি- তুমি করলে পাপ, আমার লাগলো অভিশাপ...।

সমাপ্ত