স্পর্শ
বাঙালীর মেয়ে, নিতান্ত ছোটও নয়! অথচ এতটুকু লজ্জা নেই! কাঁধ নাচিয়ে বলে কি না, আমি বাংলা লিখতে জানি না! ও, একটু আধটু বলতে পারি। আজকাল রাগ হয়ে গেলে চাপতে পারিনা মোটে; আসলে বাপ মার দোষে ছেলেমেয়েগুলো সব উচ্ছন্নে যাচ্ছে দিনকে দিন। নতুন প্রজন্মের ঝোঁক খালি ইংরেজির দিকে। রোজকার জীবন যাপনেও বিদেশীদের অন্ধ অনুকরণ। অনুকরণ ছাড়া আর কিচ্ছু বোঝে না। সে যাই হোক, যে কথাটা বলতে যাচ্ছিলাম, আমি একটা মাসিক পত্রিকা প্রকাশ করি। মাতৃভাষার দিকে নতুনদের মুখ ঘোরানোর ইচ্ছে নিয়ে আমার পত্রিকা- “সৃষ্টি”। আর, কেন জানি না, আমি এই কাজটা না করে থাকতে পারি না। এমনিতে লেখা পাওয়া দুষ্কর। আর, ভালো লেখা তো খড়ের গাদায় ছুঁচ খোঁজার মতো। যাই হোক, একটা লেখা পেতেই সেভেন্থ স্ট্যান্ডার্ডে পড়া এই মেয়েটার কাছে আসা, আর তার উত্তরে মেয়েটার কথা তো আগেই বলেছি। উঠবার আগে ভাবলাম, দেখি ইংরেজিতেই বা সে কেমন লিখেছে! দেখলাম, ভাবনায় স্বচ্ছতা আছে। লিখনশৈলী চমতকার। বললুম, তোমার লেখাটা নিলুম, পত্রিকায় ছাপবো বলে। সে বললে, “আপনি কি বাংলায় ট্রান্সলেট করে নেবেন?”
বললুম, “না, তুমি যেমনটা লিখেছ তেমনটাই ছেপে দেবো। তবে, তুমি যখন লিখতে পারছো, তার মানে তোমার মধ্যে ভাববার শক্তি এবং প্রকাশের ইচ্ছে, দুটোই আছে। তাই, চেষ্টাটা চালিয়ে যাও। নিশ্চয় একদিন না একদিন তুমি বাংলাতেও ভালো লিখতে পারবে”।
- “ নো নো, আই কান্ট রাইট ইন বেঙ্গলি।”
- বললুম, “কবি মধুসূদন দত্তের নাম শুনেছ?”
- “ও, ইয়া গ্রেট মধুকবি?”
- “হ্যাঁ, তিনিও বলেছিলেন তোমার মতো। তবে, থাকতে পারেন নি বেশিদিন, মাতৃভাষার ছোঁয়া এড়িয়ে...”
Comments (19)