নীতিনের মনটা সকাল থেকেই খুব খারাপ। ওর সাথেই এমনটা হতে হল? আজ সকালে যখন ঘুম ভেঙেছিল, চারপাশটা কি সুন্দরই না লাগছিল! ইংরেজিতে একটা কথা আছে, “Morning shows the day." এটি একটি ঢাহা মিথ্যা কথা। কারণ এই সুন্দর সকাল দেখে কারোই বোঝার কথা নয় যে তার জন্য প্রতীক্ষা করছে অসুন্দর।
সবই তো ঠিক ছিল। সূর্য ওঠার আগেই ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস নীতিনের। বাড়ির পাশের পুকুরটায় ইচ্ছেমত ঝাঁপিয়ে স্নান। স্নানরত অবস্থাতেই সূর্যোদয় হয়। চারিপাশে এক অনিন্দ্য সৌন্দর্য বিরাজ করে। রঙ ছড়াতে ছড়াতে আকাশে আসেন রঙের রাজা। দশদিকে তখন রঙের খেলা। পুকুরের জলেও ছড়িয়ে পড়ে রঙিন আভা। সেই রঙিন আভায় দাঁড়িয়ে রঙিনাভ দেহে সূর্যপ্রণাম করে নীতিন। সারাটা দেহমন তার আনন্দে ভরে যায়।
স্নানটি সেরে সোজা চলে যায় পুকুরের পাশের ঠাকুর ঘরটায়। টিনের তৈরি ঠাকুর ঘর। মাটির মেঝে। কাঠের একটা পুরনো আসনে পাতলা একটা তোশকের উপর তিনটে শালগ্রাম শিলা রাখা আছে। মাঝের শিলাটি অনেক বড়। আকৃতিতে গোলাকার। এর দুইপাশে দুইটি ছোট এবং চেপ্টা শিলা। আসনের সামনে একটা ছোট জলচৌকি রাখা। তার উপর একটা ছোট কাসের থালা আর ছোট একটা কাসের গ্লাসে নৈবেদ্য নিবেদন করা হয়। বড়সড় উৎসব ছাড়া এ বাড়ির নারায়ণ শিলার ভাগ্যে চিনিকলা ছাড়া আর কিছু জোটে না। [চলবে......]
Comments (4)