শিমুল আর পলাশের ডালে মাতাল হাওয়া,
অথচ আমার দুয়ারে থমকে আছে অদ্ভুত শীত।
শহরের প্রতিটি গাছে উৎসবের লাল,
কেবল আমার উঠোনে জমে আছে নিস্তব্ধ ছাই।
যত্নে বোনা নকশীকাঁথায় আচমকা বিঁধে থাকা সুঁচের মতো
এই ফাল্গুন কেবল গোপন ক্ষত ছুঁয়ে যায়।
অনেকদিন বাজানো হয়নি বলে,
ধুলোপড়া হারমোনিয়ামের কোনো এক রিড যেমন বোবা হয়ে থাকে,
আমার বিকেলগুলো ঠিক ততটাই শব্দহীন।
আমি তো শুধু চেয়েছিলাম,
তোমার উড়ন্ত আঁচল মুছে দিক আমার বিষণ্ণ রোদ,
তোমার হাসির শব্দে বারান্দার মরা টবে জেগে উঠুক মাধবীলতা।
দখিনা বাতাস আসে, চেনা ঘ্রাণ বয়ে আনে;
কিন্তু যে বাতাসে তোমার নিশ্বাস নেই,
সে বাতাস আমার বুক চেনে না।
চারপাশে রঙের কোলাহল।
সবাই বলে, বসন্ত এসেছে।
আমি কেবল আধখোলা জানলার পাশে চুপচাপ বসে থাকি।
অন্ধকার ঘরে পর্দাটা সামান্য কেঁপে ওঠে,
আর মেঝের ওপর নিঃশব্দে খসে পড়ে
একটি বিবর্ণ, শুকনো পলাশ।

Comments (0)
No comments yet. Be the first to comment.