কথা তো ছিল, আঁধার পেরোলেই রোদে স্নান করবে উঠোন!
অথচ ভোরের আগে প্রতিবারই সূর্যকে হত্যা করেছে অন্ধকার।
দীর্ঘশ্বাসে কেবল ভারী হয়েছে শহরের অবরুদ্ধ দেয়াল।
পায়ের নিচে মাটি শুকিয়ে কাঠ, শিরদাঁড়ায় জমেছে আপোসের শ্যাওলা।
আর কতকাল মিথ্যে প্রবোধের পায়ে মাথা খুঁড়ে মরবো আমরা?

বেঁচে থাকা মানেই তো কেবল নিশ্বাস টানা আর মাথা নোয়ানো নয়।
স্বাধীনতা মানে নয় খাঁচায় বসে ডানা ঝাপটানোর রক্তাক্ত প্রলাপ!
বুকের গহীনে সযত্নে ঘুমিয়ে আছে যে জমাট ক্ষোভের বারুদ।

আজ তার শেকল খোলার দিন,
চুকিয়ে দেওয়ার দিন শতাব্দীর ঋণ।

যে হাতে পরানো হয়েছিল শেকল,
সে হাতের মুঠোয় আজ গলুক ইস্পাত।
যারা বুনেছিল মিথ্যের জাল,
তাদের ইতিহাসেই আজ ফুটুক বিদ্রোহের পলাশ!

এবার ঘুম ভাঙুক।

নিভে যাওয়া চোখের তারায় জ্বলে উঠুক দাবানল।
শুকনো নদীর অস্থিমজ্জায় আছড়ে পড়ুক বাঁধভাঙা স্রোত।

ছিঁড়ে যাক জীর্ণ খোলস।
ভস্ম হোক দাসত্বের মেকি অহংকার।
মরচে ধরা স্নায়ুর তারে আজ,

রক্তে লাগুক জোয়ার।