রাত পৌনে এগারোটা।
যাদুকাটা নদীর ওপারে মেঘালয়ের পাহাড়গুলো অন্ধকারে ঢেকে আছে। শিশির জমেছে চরের বালুতে। নদীর বুক থেকে ভেসে আসছে ড্রেজারের কর্কশ ঘড়ঘড় শব্দ। একটু দূরে ট্রাকের ইঞ্জিন গর্জে উঠছে, তারপর বালুভর্তি ট্রাকগুলো একে একে পাড়ের রাস্তা ধরে এগিয়ে যাচ্ছে।
নদীর পাড় থেকে কিছুটা দূরে একটা মরা কদমগাছের পাশে পুরোনো ১২৫ সিসির বাইকটা দাঁড় করালেন আহমেদ হোসাইন ছানু। ইঞ্জিন বন্ধ করে পকেট থেকে ছোট খাতাটা বের করলেন। খুদে লাইটের আলোয় তারিখ আর সময় লিখে নিলেন।
২০০৫ সালে মফস্বল সাংবাদিকতায় আসার পর থেকেই এই অভ্যাস। মাঠে কাজ করতে গিয়ে তিনি শিখেছেন, দূর থেকে দেখা আলো কিংবা মানুষের মুখে শোনা কথা দিয়ে নির্ভরযোগ্য সংবাদ তৈরি হয় না। ড্রেজার ঠিক কোথায় বসানো হয়েছে, ট্রলারগুলো কোথায় ভিড়ছে, বালু কোথায় নেওয়া হচ্ছে, নদীর পাড়ে বসবাস করা মানুষের জমি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কি না, এসবের সুনির্দিষ্ট তথ্য দরকার।
ক্যামেরার স্ট্র্যাপটা ঘাড়ে ঝুলিয়ে তিনি পাড়ের বাঁধ ধরে এগোতে গেলেন। ঠিক তখনই পেছন থেকে টর্চের আলো এসে পড়ল তাঁর মুখে।
“ছানু ভাই? এত রাতে এখানে?”
ছানু ভাই ঘুরে দাঁড়ালেন। টর্চের আলো সরিয়ে নিল লোকটা। বশির।
একসময় স্থানীয় একটা ছোট পত্রিকার প্রতিনিধি ছিল সে। ছানু ভাইয়ের সঙ্গে কত সংবাদ সম্মেলনে দেখা হয়েছে, কত চায়ের দোকানে বসে খবর নিয়ে আলোচনা করেছে। এখন বশির নদীর ঘাটের তদারকি করে। গায়ে নতুন জ্যাকেট, ঠোঁটে আধপোড়া সিগারেট।
“আমি তো থাকিই ছানু ভাই,” বশির ধোঁয়া ছেড়ে বলল। “ঘাটের দেখাশোনা করি। কিন্তু এই ঠাণ্ডায় এত রাতে এখানে আসার কী দরকার ছিল? প্রেস ব্রিফিং আর প্রেস ক্লাবের চা খেয়েই তো আপনার দিন পার হওয়ার কথা।”
ছানু ভাই তার কথার সুর লক্ষ করলেন।
“কাজের জন্যই আসছি। আগের সপ্তাহে এই এলাকায় ড্রেজার বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। অথচ রাতে কাজ চলছে।”
বশির একটু হাসল।
“নির্দেশ তো কতই হয় ছানু ভাই। ইজারাদার রহিম ভাই বলছিলেন, আপনি আমাদের চেনা মানুষ। খামোখা রাতের বেলা এই বাতাসে বাইক চালিয়ে কষ্ট করার দরকার নাই। উনার সঙ্গে কথা বলে নিলেই পারেন। বাইকের তেল খরচ আর ঘরের টানাপোড়েনটাও একটু হালকা হয়।”
ছানু ভাই কিছুক্ষণ তার দিকে তাকিয়ে রইলেন। রহিমের সঙ্গে কথা বলার প্রস্তাবটা নিছক সৌজন্য নয়, তা বুঝতে অসুবিধা হলো না।
“রহিম ভাইকে বলো, যা দেখব, তা-ই লিখব।”
বশির সিগারেটের শেষ অংশটা বালুর ওপর ফেলে জুতার নিচে পিষে দিল।
“হাওরের রাতে একা বাইক চালানো কিন্তু নিরাপদ না, ছানু ভাই।”
“আমার চেনা রাস্তা।”
ছানু ভাই আর কথা বাড়ালেন না। বাইকের কাছে ফিরে এসে ক্যামেরাটা ব্যাগে রাখলেন। তারপর ইঞ্জিন চালু করে রওনা দিলেন। আয়নায় একবার চোখ পড়তেই দেখলেন, বশির পকেট থেকে ফোন বের করেছে।
রাস্তায় ওঠার পর ছানু ভাইয়ের মনে হলো, আজকের কাজটা সহজ হবে না। ছবি তোলার পাশাপাশি তাঁকে নথি সংগ্রহ করতে হবে। উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশটি কার্যকর আছে কি না, ড্রেজারগুলো ঠিক কোন এলাকায় কাজ করছে, আর নদীভাঙনের অভিযোগের সঙ্গে উত্তোলনকাজের কোনো সম্পর্ক আছে কি না, সেসব যাচাই না করে প্রতিবেদন লেখা ঠিক হবে না।
পরদিন সকালে তিনি প্রথমে গেলেন উপজেলা প্রশাসনের কার্যালয়ে। আগের সপ্তাহে ড্রেজার বন্ধ রাখার যে নির্দেশ জারি হয়েছিল, তার একটি অনুলিপি সংগ্রহের চেষ্টা করছিলেন। সংশ্লিষ্ট শাখার এক কর্মচারী তাঁকে বসতে বলে ফাইল খুঁজতে গেলেন। কিছুক্ষণ পর ফিরে এসে জানালেন, নথির অনুলিপি দেওয়া যাবে, তবে আবেদন জমা দিতে হবে।
ছানু ভাই প্রয়োজনীয় আবেদন জমা দিলেন। কাগজপত্রের কাজ শেষ হতে সময় লাগবে শুনে তিনি আর তাড়া দিলেন না। নিজের খাতায় নথির নম্বর ও তারিখ লিখে রাখলেন।
সেখান থেকে তিনি গেলেন পরিবেশ দপ্তরের স্থানীয় কার্যালয়ে। সহকারী পরিচালক তাঁর পরিচিত। ছানু ভাইকে দেখে চায়ের কাপ নামিয়ে রাখলেন।
“কী ব্যাপার ছানু ভাই?”
“যাদুকাটা নদীর ব্যাপারে কিছু জানতে আসলাম।”
“ওহ। নদী নিয়ে কিছু করছেন নাকি!”
“রাতে ড্রেজার চলতে দেখেছি। জানতে আসলাম, সংশ্লিষ্ট জায়গায় কাজের অনুমতি আছে কি না।”
কর্মকর্তা চেয়ার থেকে সামান্য সোজা হয়ে বসলেন।
“বিষয়টা এত সহজ না। নদীতে বালু উত্তোলনের জন্য এক ধরনের অনুমতি লাগে, পরিবেশগত ছাড়পত্রের বিষয়ও আছে। সব কাগজ এক দপ্তরে থাকে না।”
“তাহলে সংশ্লিষ্ট ইজারার কাগজ আর ছাড়পত্রের অবস্থা কোথায় যাচাই করা যাবে?”
কর্মকর্তা কয়েকটি দপ্তরের নাম বললেন। কথার মধ্যে কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া গেল না। ছানু ভাই তাঁর বক্তব্য খাতায় লিখে নিলেন। বেরিয়ে আসার সময় তিনি শুধু জানতে চাইলেন, পরিবেশগত কোনো নিষেধাজ্ঞা বা আদেশ থাকলে তার অনুলিপি পাওয়ার নিয়ম কী।
কর্মকর্তা তাঁকে আবেদন করতে বললেন।
দুপুরের দিকে ছানু ভাই পৌঁছালেন উজান চরে গফুর মিয়ার বাড়িতে। নদীভাঙনে তাঁর আবাদি জমির একটা অংশ ইতিমধ্যে বিলীন হয়েছে। উঠোনে বসে গফুর মিয়া ছেঁড়া জাল মেরামত করছিলেন।
ছানু ভাইকে দেখে তিনি জালটা পাশে রাখলেন।
“ছানু ভাই, আবার কী হইল?”
“আপনার জমির ক্ষতির কথা শুনেছিলাম। একটু জানতে এসেছি।”
গফুর মিয়া মলিন মুখে হাসলেন।
“লিখে কী হবে? গত বছরও ঢাকা থেকে সাংবাদিক আইছিল। ছবি তুলল, টিভিতে দেখাইল। তারপর আর কেউ আসে নাই। একবার ইজারাদারের লোকজন বাড়ির সামনে ফাঁকা গুলি ফুটাইয়া গেছিল। আমরা গরিব মানুষ, গ্রাম ছাইড়া যামু কই?”
ছানু ভাই খাতাটা খুললেন।
“আপনার জমি মাপতে কেউ এসেছিল?”
“তহশিলদার আইছিল। দেইখা কইল, নদীর গতিপথ বদলাইছে। জমির এক পাশ এখন নদীতে। আরেক পাশ নাকি সরকারি জমি।”
“আপনার কাছে জমির পুরোনো কাগজ আছে?”
গফুর মিয়া ঘরের ভেতর থেকে একটা পুরোনো ফাইল নিয়ে এলেন। কয়েকটি কাগজের কোণা ছেঁড়া, কোথাও কালির দাগ। ছানু ভাই কাগজগুলো দেখে প্রয়োজনীয় তথ্য লিখে নিলেন। অনুমতি নিয়ে কয়েকটি পাতার ছবিও তুললেন।
“আপনার বক্তব্যটা আমি লিখতে চাই। তবে আপনার নাম প্রকাশ করলে কোনো সমস্যা হবে?”
গফুর মিয়া কিছুক্ষণ চুপ করে রইলেন।
“নাম দিলে যদি আবার ঝামেলা হয়?”
“আপনার নিরাপত্তার বিষয়টা বুঝতে পারছি। আপনি চাইলে নাম প্রকাশের আগে বিষয়টা নিয়ে আবার কথা বলতে পারি। তবে আপনার অনুমতি ছাড়া আপনার বক্তব্য প্রকাশ করব না।”
গফুর মিয়া সম্মতি দিলেন না, আবার পুরোপুরি নিষেধও করলেন না। ছানু ভাই তাঁকে সময় দিলেন। বিদায়ের আগে বললেন, জমির কাগজের তথ্য যাচাই করে প্রয়োজনে আবার আসবেন।
ফেরার পথে তাঁর ফোন বেজে উঠল। পত্রিকা অফিস থেকে বার্তা এসেছে, সন্ধ্যার মধ্যে কাজের অগ্রগতি জানাতে হবে।
বিকেল চারটায় প্রেস ক্লাবে পৌঁছে তিনি কম্পিউটারে রাতের ছবিগুলো তুলছিলেন। একটি ছবিতে ড্রেজারের পাইপ দেখা যাচ্ছে, আরেকটিতে নদীর পাড়ে বালুভর্তি ট্রাক দাঁড়িয়ে। অন্ধকারের কারণে দূরের কিছু অংশ পরিষ্কার নয়। ছবিগুলো দিয়ে কাজের অবস্থান ও সময় সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়, কিন্তু সব তথ্য প্রমাণ করা যায় না।
ছানু ভাই ছবিগুলো আলাদা করে রাখলেন। এরপর খাতার নোটের সঙ্গে সময় মিলিয়ে দেখতে লাগলেন।
ঠিক তখনই পাশে এসে বসলেন প্রেস ক্লাবের প্রবীণ সদস্য মান্নান ভাই।
“ছানু, শুনলাম যাদুকাটা নিয়ে কাজ করছিস?”
“হ্যাঁ। কিছু ছবি পেয়েছি। নথিও সংগ্রহ করছি।”
মান্নান ভাই তাঁর দিকে তাকালেন।
“তোর মেয়েটার কলেজের ফি বাকি, শুনলাম। আর চণ্ডীপুরের জমির মামলাটাও চলছে। এত চাপের মধ্যে নতুন ঝামেলায় জড়ানোর দরকার আছে?”
ছানু ভাই হাত থামালেন।
“আপনাকে এসব কে বলেছে?”
“রহিমের বড় ভাই ফোন করেছিল। বলল, তুই নাকি রাতের বেলা ঘাটে ঘুরছিস। ছানু, তোর একুশ বছরের সাংবাদিকতা আমি দেখেছি। তুই কখনো খাম নিসনি। কিন্তু একটা খবর ছাপার পর পত্রিকা যদি তোকে সরিয়ে দেয়, তখন সংসার চালাবি কী দিয়ে? মেয়ের ফি বাকি, মামলার খরচ আছে। সত্যি খবর ছাপানো আর সেই খবরের মূল্য দেওয়া এক কথা না।”
ছানু ভাই চুপ করে রইলেন।
মান্নান ভাইয়ের কথাগুলো একেবারে অযৌক্তিক নয়। মেয়ের কলেজের ফি দেওয়ার শেষ তারিখ পরদিন। পকেটে আশি টাকার মতো আছে। বাইকে তেল ভরাতে হবে, বাড়ির বাজারও বাকি। পত্রিকা থেকে মাস শেষে যা পান, তা দিয়ে সব খরচ চলে না। কখনো ধার করতে হয়, কখনো পরিচিত কারও কাছ থেকে টাকা নিয়ে পরে শোধ করতে হয়।
তিনি জানেন, প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে রহিমের লোকজন ক্ষুব্ধ হতে পারে। পত্রিকা অফিসেও চাপ আসতে পারে। আবার তথ্যের কোনো ভুল থাকলে সেই ভুল ধরিয়ে তাঁকে বিব্রত করা কঠিন হবে না।
“তুই একটু ভেবে দেখিস,” মান্নান ভাই বললেন। “আমি তোকে থামাতে আসিনি। শুধু বললাম, সিদ্ধান্তটা যেন বুঝেশুনে নিস।”
তিনি কিছুক্ষণ থেকে উঠে চলে গেলেন।
ছানু ভাই আবার কম্পিউটারের দিকে তাকালেন। স্ক্রিনে নদীর পাড়ে পড়ে থাকা বাঁশের খুঁটির ছবি। ছবিটি তুলেছিলেন আগের রাতে। খুঁটিগুলো জমির সীমানা বোঝাতে পোঁতা হয়েছিল বলে গফুর মিয়া জানিয়েছিলেন। কিন্তু ছবিটি একা সেই দাবির প্রমাণ নয়। জমির কাগজ, স্থানীয় বক্তব্য ও প্রশাসনিক নথির সঙ্গে মিলিয়ে দেখতে হবে।
তিনি প্রতিবেদন লেখার ফাইল খুললেন। প্রথমে রাতের ড্রেজার চলার বিবরণ লিখলেন। এরপর কোথায় ছবি তুলেছেন, কী নথি সংগ্রহ করেছেন এবং কোন তথ্য এখনো নিশ্চিত করা যায়নি, সেগুলো আলাদা করে উল্লেখ করলেন। গফুর মিয়ার নাম প্রকাশের বিষয়ে সম্মতি না পাওয়ায় তাঁর পরিচয় বাদ দিলেন। ইজারাদারের বক্তব্য নেওয়ার জন্য রহিমের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলেন। ফোন ধরল না কেউ। তিনি বার্তা পাঠিয়ে জানালেন, প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য রহিমের বক্তব্য প্রয়োজন।
তারপর উপজেলা প্রশাসনের কার্যালয়ে দেওয়া আবেদনের কথা উল্লেখ করে জানালেন, নির্দেশের অনুলিপি সংগ্রহের প্রক্রিয়া চলছে। নথি হাতে না পাওয়া পর্যন্ত নির্দেশের শর্ত ও মেয়াদ সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো দাবি করলেন না।
প্রতিবেদনটি শেষ করে তিনি বার্তা সম্পাদক সাইফ ভাইকে ফোন দিলেন।
“সাইফ ভাই, যাদুকাটা নিয়ে একটা রিপোর্ট তৈরি করছি। রাতের ছবি আছে, স্থানীয় একজনের জমি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার অভিযোগ আছে। প্রশাসনিক নথির অনুলিপি চেয়েছি। তবে কিছু বিষয় এখনো যাচাই বাকি।”
ওপাশ থেকে সাইফ ভাই বললেন, “তাহলে যাচাইয়ের বিষয়গুলো পরিষ্কার করে লিখো। অভিযোগকে নিশ্চিত তথ্য হিসেবে ছাপানো যাবে না। নথি হাতে পেলে পাঠিয়ে দিও।”
“ঠিক আছে ভাই।”
ছানু ভাই ফোন রেখে ফাইলটা আবার পড়লেন। কয়েকটি বাক্য সংশোধন করলেন। এরপর রাতের ছবিগুলো যুক্ত করে প্রাথমিক প্রতিবেদনটি ইমেইলে পাঠালেন। সঙ্গে লিখলেন, নথির অনুলিপি পাওয়া গেলে প্রতিবেদন হালনাগাদ করা যাবে।
ইমেইল পাঠানোর পর তিনি কম্পিউটার বন্ধ করলেন। বাইরে সন্ধ্যা নেমেছে। প্রেস ক্লাব থেকে বের হয়ে বাইকে উঠতে গিয়ে পকেটের টাকা গুনলেন। তেল ভরানোর পর বাড়ি ফেরার ভাড়া কিংবা অন্য কোনো জরুরি খরচের জন্য খুব বেশি কিছু থাকবে না।
পরদিন সকালে পত্রিকার দুইয়ের পাতায় যাদুকাটা নদীর রাতের ড্রেজার চলাচল নিয়ে তিন কলামের প্রতিবেদন প্রকাশিত হলো। প্রতিবেদনে রাতের ছবির পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের অভিযোগ, প্রশাসনের কাছে নথি চাওয়ার তথ্য এবং ইজারাদারের বক্তব্য চাওয়ার কথা উল্লেখ ছিল। তবে কোনো নিষেধাজ্ঞা অমান্য হয়েছে, এমন চূড়ান্ত দাবি করা হয়নি। নথি যাচাইয়ের কাজ তখনো চলছিল।
দুপুরে জেলা প্রশাসনের কার্যালয় থেকে জানানো হলো, অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখতে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হচ্ছে।
বিকেলে পরিবেশ দপ্তরের সহকারী পরিচালক ফোন করলেন।
“ছানু সাহেব, আপনার প্রতিবেদনে কিছু তথ্য অসম্পূর্ণ আছে।”
“সেগুলো যাচাই করছি, ভাই। আপনার দপ্তরের কোনো লিখিত বক্তব্য থাকলে পাঠিয়ে দিয়েন।”
ওপাশ থেকে কিছুক্ষণ নীরবতা। তারপর ফোন কেটে গেল।
ছানু ভাই বাইকের তেল ভরাতে বের হয়েছিলেন। পকেটের টাকা দিয়ে প্রয়োজনের চেয়ে কম তেল নিতে হলো। ক্যাশ মেমোটা ভাঁজ করে মানিব্যাগে রাখলেন। মেয়ের কলেজের ফি দেওয়ার ব্যবস্থা এখনো হয়নি। বাড়ি ফিরে এ নিয়ে আবার কথা বলতে হবে।
সন্ধ্যায় যাদুকাটার ঘাটের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় বশিরকে দেখতে পেলেন। সে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে ছিল। ছানু ভাইয়ের দিকে তাকাল, কিন্তু এগিয়ে এল না।
ছানু ভাইও থামলেন না।
পরদিন সকালে তাঁকে আবার কাজে বেরোতে হবে। তদন্ত কমিটি কী করবে, রহিমের লোকজন কীভাবে প্রতিক্রিয়া দেখাবে, পত্রিকা অফিসে কোনো চাপ আসবে কি না, কিছুই তিনি জানেন না। শুধু জানেন, যেসব তথ্য এখনো যাচাই করা বাকি, সেগুলো যাচাই করতে হবে।
বাইকটা মেঠো রাস্তা ধরে এগিয়ে গেল। পেছনে নদীর শব্দ ক্রমে ক্ষীণ হয়ে এল।

Comments (0)
No comments yet. Be the first to comment.