করোনার ঘরবন্দি সময় চলছে।এই বন্দি সময়ে অনেক পরিবর্তন হয়েছে।মানসিক পরিবর্তনটাই বেশি।আমাদের এখন যে বয়সটা চলছে তাতে আমাদের ম্যাচুউর হওয়ার সময়।প্রতিদিন বন্ধু-বান্ধবীদের আড্ডাসহ অন্যান্য সকল সহচরীদের মাধ্যমে নিত্যনতুন শিখতে পারতাম।কিন্তু এখন তা সম্ভব হচ্ছে না।আমরা চিরকাল শিখার একটা ধারাবাহিকতার মধ্য দিয়ে গেছি।কিন্তু এমন জীবনে মনের পরিবর্তন কতটা তা আমিই বুঝতে পারছি।বয়সের দোষেই এই অবসর সময়ে-সারাক্ষণ শুধু তার কথা মনে পড়ছে।
তাকে আমি গত দুই বছরের বেশি সময় ধরে খুব করে চাইছি।কিন্তু কখনোই তাকে কিছুই বলতে পারিনি।এই দোষ শুধুই আমার।কারণ তাকে দেখলেই আমার কথায় জড়তা বাড়ে,সবকিছু ঝাপসা লাগে।তারউপর তো আছে তার পছন্দের তৃতীয় পক্ষ।এসব জিনিস জানা সত্ত্বেও আমি এই বছরগুলোতে তার জন্য অপেক্ষার প্রহর গুনে গেছি।তাকে তো আমি খুব করে চাই।
এই অবসর সময় এই চাওয়া দ্বিগুন নয় দশগুন বৃদ্ধি পেয়েছে।ফেসবুকের কারণে তার সাথে আমি এড ছিলাম।তার নিত্যদিনের নানাবিধ পোস্ট,ফটো দেখতে পেতাম।তার আমার জন্য করা রিয়েক্ট গুলো স্ক্রীনশটে সয়লাব হয়েছে আমার গ্যালারীতে।প্রায় নয়শোর বেশি স্ক্রীনশট।কিন্তু বিগত এক মাস যাবত সে আমাকে ফেসবুক থেকে ব্লক দিয়ে রেখেছে।তার কোন পোস্ট পাইনা।তার সাথে কন্টাক্টও সম্ভব না।আমি নিরুপায়।সে হয়তো বুঝতে পেরেছে আমি তার উপর দুর্বল।কিন্তু সে এটা হয়তো বুঝতে পারেনি তার প্রতি এই দুর্বলতা আমাকে কতটা পোড়াচ্ছে।এই দায় কার?তার তো নাই,শুধুই আমার এবং আমার।
তার প্রতি আমার প্রেমাবেগটা বেশি ঘনীভূত হয়েছে।তাই তার এতো প্রতিকূলতা জানা সত্ত্বেও আমি আমার ভাবনা-জল্পনা-কল্পনা থেকে তাকে বাদ দিতে পারছি না।
এ হলো সাধারাণ কিছু কথা।আরও ভিতরের কিছু কথা আছে।তা একান্তই আমার।কিন্তু এখন আমার একজন মানুষ প্রয়োজন ছিলো,যাকে এই কথা গুলো বলতে পারলে আমার কষ্ট কিছুটা লাগব হতো।একটা কথা আছে,"সুখ ও দুঃখের কথা বারবার বলে উচিত।কারণ সুখের কথা যত বলা হয় তত সুখ বাড়ে আর দুঃখের কথা যত বলা হয় তত দুঃখ কমে।"
কিন্তু এই মূহুর্তে তাও সম্ভব না।কারণ আমার ঘনিষ্ঠ বন্ধুরাই আমাকে ত্যাগ করতে শুরু করেছে।
কি আর করা।কাউকে কিছু বলতে পারছিনা।মাঝে ধুকেধুকে ভোগা আরকি।এই বয়সের প্রেমাবেগটা খুব খারাপ।তা অক্ষরে অক্ষরে বুঝতে পারছি।দেখা যাক কি করা যায়...
Comments (0)
Only registered members can comment. Log in
No comments yet. Be the first to comment.