--------------"জমের বুড়ি"-----------------
কে বা কবে নাম তার রেখেছিল জমের বুড়ি,
ভাত না রেধেঁ খাইতো যে শুধু ভাজা মুড়ি !
বুড়ির ঘরের পেছনটাতে ছিল মিষ্টি বরই গাছ
তাইতো দুষ্ট বালকগুলির থাকিত সেথাই কাজ ।
এ খেলা-সে খেলা নয়তো আসল খেলা,
ছলাকলা জানা তাদের-
সুযোগ পেলেই বসাবে বরই চুরির মেলা ।
ঢেলুপাড়া গ্রামটাতে ছিলো না ঢিলের অভাব,
ঢিল ছুঁড়ে হাত ঠিক করাটা ছিল বালকগুলির স্বভাব ।
বড় বড় পাকা বরই থাকে মগডালে.
ঢিল ছুঁড়ে বরই পাড়ে কিছু পড়ে খালে ।
জমের বুড়ির দরজায় সেদিন দেয়া ছিলো খিল,
বুড়ি নাই এই ভেবে, তপুটা মারে কষে মগডালে ঢিল ।
এমনি সময় অদূরেতে চিল্লাইয়া কহিল বুড়ি,
'কে রে মারিলো ঢিল ? কোন হারামজাদা' ?
দাঁড়াইয়া থাক দেখি, তোর কেমন বুকের পাঠা !
বলি, পালা পালা আসিতেছে জমের বুড়ি !
ধরিতে পারিলে মারিবে যে খুবই ।
ভোঁ দৌড় দিলো সব দুষ্ট বালকের দল,
জনি বলিল, জানিস তপু বুড়ির শরীরে এখনো হেব্বি বল্ !
যে যেদিক পারিলো ছুটাইয়া পালাইলো
খোকাটা শুধু উষ্ঠা খাইয়া মাটিতে লুটাইলো,
এই বুঝি ধরিলো জমে খামচে শাটের কলার
ধরা খেলে হায় ! থাকিবে না আর কিছুই বলার।
পাশে থাকা শুষ্ক পুকুর ধারে খোকা নিজেরে লুকাইলো,
খোকাটা বোকা বলে কি ধরা না টায় খাইলো !
জমের বুড়ি ধরেছে তারে, সহজে কি আর ছাড়ে
এক পা দু পা মাথা নিচু করে বুড়ির সামনে বাড়ে ।
প্রতিবেশি জোসনা শুধাইলো হাঁক ছেড়ে
কেন মারিতেছো বাপু পোলাডারে ?
অতটুকু পোলা মেরেছে না হয় এক ঢিল,
তাই বলে দিতে হবে অতগুলো কিল ?
বুড়ি উচচস্বরে বলিল, নিজের চরকায় মারো গিয়ে তেল,
দেখাবো তারে আমি আামার কত খেল ।
গ্রাম আছে গাছও আছে, নেই আজ জমের বুড়ি
বরই গুলি খায় তার টিয়া-বুলবুলি ।
বড় খোকা ভাবে বসে স্মৃতিময় দিন
কি ছিলো মধুর তাহার শৈশবের সেদিন !
Comments (0)
No comments yet. Be the first to comment.