রাস্তার পাশে দাড়িয়ে দল হয়ে অনেকে ঘোড়া দেখছে। যেন কত দিন দেখেনা তারা এই ঘোড়া নামের পশু টিকে।ওদের দেখা-দেখি কিশোরের দল ও যোগ দিল।অনেক কথা চলছে তাদের মধ্যে ঘোড়াকে নিয়ে। হঠাৎ ময়দুরের কথাটাকে ধরে উঠলো সকলে। সর তোরা সরে যা,ঘোড়াক গালেই দৌড় দুরুম। ওই সখি সর ,সরে যা ঘাটা ছারে দে..সখি রাস্থা থেকে সরে দাড়াতেই,মজমুল জোরে জোরে বলল’ঘোড়া তোর পায়ের তলে নোড়া,এক পাও খোঁড়া। মজমুলের দেখ দেখি সকলেই বলতে লাগলো। ঘোড়া তোর পায়ের তলে নোড়া এক পাও খোঁড়া। বলতে বলতে যে যার মত পিছাচ্ছে যেন এখনি ঘোড়া ওদের পিছু নিবে। ওদের মধ্যে ছোটরা দিয়েছে ছুট,ঘোড়া এগিয়ে আসছে তাদের দিকে। সবাই ছুটছে,মজমুল ঘোড়া কে বেশি গালি দিয়েছে বলে যত ভয় তারি জোরে ছুটছে ছে,ছুটতে ছুটতে আচমকা কার সঙ্গে ধাক্কা লেগে পড়ে গেল লোকটা্ প্রচন্ড ধাক্কায় মাটিতে পড়েই কুকাতে লাগলো সে। মজমুলের সে দিকে খেয়াল নেই। সে আপন ইচ্ছাই ছুটছে কেবলি ছুটছে। ছুটতে ছুটতে সোজা গ্রামের ভিতর আজমালের দোকানে গিয়ে থামলো সে। আজমাল মজমুল কে ছুটে আসতে দেখে হেসে বলল কিরে মজমুল দৌড়াছি ক্যা? মজমুল কথা না বলে বসলো দোকানের সামনের টংগে। চোখে মুখে তার ভীতি আর উৎকন্ঠা। কিছুক্ষন পর আপন ইচ্ছাই চলে গেল মজমুল। সারা দিন কারো সঙ্গে দেখা হলনা আর।
পরদিন সকাল বেলা। আস্থে আস্থে সকলেই জমা হল আজমলের দোকানে। মজমুল এখনো আসছেনা ,কিন্তু কেন? মজমুল তো এতক্ষ না আসার কথা নয় তাছাড়া আজ তাদের অন্য পাড়ার সাথে ফাইনাল খেলা। এ কথা আর কারো না হোক মজমুলের মনে থাকার কথা। বেলা বেড়ে চলছে,মজমুল এখনো আসছেনা? এক অসান্ত উত্তেজনা আর বিরক্তিতে হাপিয়ে উঠেছে কিশোরের দল। তর শইছেনা আর তাদের মধ্যে,হাবলু এবার রাগ করেই বলল-হাটোতোরে সবাই মিলে অর বাড়িত যায়্যা ডাকে নিয়ে আসি।
হ বাবলু ঠিকি কছিস,হাট সবাই হাট। হাট যায়্যা দেখি শালা মচে নাকি? চুপ তো মইদুল এলা কথা কসনা..আজ হামার ফাইনাল খেলা। মজমুল ছাড়া তো খেলা হবোলায়। হ ঐ শালাই তো নেতা,অর তনেই তো হারা খেলা শিখিছি। কি কস হাবলু ,হ । অনেক কথার ছলেই ওরা যখন মজমুলের বাড়ি ফৌছালো তখন বেলা অনেক বেড়েছে। বাড়িতে কোন জন মানুষের সাড়া নাই। ছোট্ট কুঠিরের দরজা খোলা,ওরা ঘরে ঠুকেই অবাক হল কেমন সব কিছু এলো মেলো মেঝেতে হালকা রক্ত আবছ অন্ধকারে ইস্পস্ট দেখা যাচ্ছে না।হাবলু দৌড়ে গিয়ে জ্বানালা খুলে দিল। চিৎকার করে উঠলো অন্যেরা।দুটি নিস্তব্দ দেহ পড়ে আছে মাটিতে। ওদের শুধু মাথ দেখা যাচ্ছে। আর রক্তে জুপসে গেছে তাদের শীত বস্ত্র। সে বস্ত্র সরাতেই বেরিয়ে এলো মজমুল আর তার মা। চিৎকার শুনে ছুটে এলো অনেক লোক।হায় হায় করতে কেরতেই কেউ কেউ সরাতে গেল তাদের লাস।মজমুল কে সরাতে গিয়ে দেখলো শীতে পাথর হয়ে গেছে তার নিরব দেহ্ আর তার মা জীবিত ,তবে অচেতন। সে দেহে এখনো প্রাণ আছে।
মহূর্তে ছড়িয়ে গেল সে খবর। পুলিশ এলো মজমুলের লাশ উঠাতে গিয়ে অবাক হল সবাই। শান্ত মজমুলের হাতে আসাদ পাগলার পশমি টুপি। পায়ে বাধাঁ মাফলার মাফলার যেন চিৎকার করে বলছে,আমাকে মেরনা,আমাকে মেরনা,আমি বাঁচতে চাই, আমার মাকে মেরনা,আমাদের বাঁচতে দাও। আমি বাঁচতে চাই। বুকের কাছের ক্ষত থেকে আর একবার বেরিয়ে এলো তাঁজা রক্ত। সে রক্তে ভিজে গেল কঠিন মাটি..।
সমাপ্ত
Comments (8)