তো এভাবেই বছর শেষে নতুন ক্লাসে উঠলাম। ১৯৮৯ সালের শুরু, শীতের শেষ দিক। আমাদের কোয়ার্টারে এক বাৎসরিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হলো। খেলার শেষে যেমন খুশি তেমন সাজো, তারপর সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এর আগে আমি কখনও স্কুলের বা অন্য কোথাও কোন ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় অংশ নেইনি। তারপরও বিভিন্ন খেলায় অন্যান্যদের পাশাপাশি দেখা গেলো আমার কপালেও কিছু পুরস্কার জুটেছে। যেমন খুশি তেমন সাজো-তে কোয়ার্টারের রানা ভাই সেজেছিলেন গ্রামের মোড়ল, আর সৈকত ছিলো তার সাথে ছাতা হাতে মোড়লের চামচা। দু'জনই কচুরীপানার কালো শিকড় কেটে সুপার গ্লু দিয়ে মুখে দাড়ি-গোঁফ হিসাবে লাগিয়েছিলো। অনুষ্ঠান শেষে সেই দাড়ি-গোঁফ তুলতে গিয়ে সৈকতের সে কি কান্না! তার ধারণা এগুলো এমন স্থায়ীভাবে লেগে গেছে যে আজীবন এখন তাকে এসব দাড়ি-গোঁফ মুখেই চলতে হবে!
খেলার মাঠের একপাশে লোক দিয়ে প্যান্ডেল ও মঞ্চ তৈরি করা হয়েছিলো। সন্ধ্যায় সেখানে জমে উঠে গান, কৌতুক, মুকাভিনয় ইত্যাদির সমন্বয়ে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানের পরিচালনা ও উপস্থাপনায় ছিলেন এ এস পি আংকেল, রানা ভাইয়ের বাবা। তিনি এক পর্যায়ে আমাকে এসে বলে গেলেন তৈরি থাকতে, আমাকে স্টেজে গিয়ে কবিতা পড়ে শুনাতে হবে। শুনে আমি তো ভয়ে কাঠ! নানাভাবে চেষ্টা করলাম আমার পরিবর্তে অন্য কাউকে কবিতার জন্যে বাছাই করতে। রানা ভাইও ভাল কবিতা লিখেন। কিন্তু খ্যাতির বিড়ম্বনা বলে একটা কথা আছে। শত হলেও আমার কবিতাই পত্রিকায় ছাপানো হয়েছে। তাই আমাকেই যেতে হলো স্টেজে। নাম ডাকার পর টলোমলো পায়ে স্টেজে গিয়ে উঠলাম। মনে মনে ঠিক করে রেখেছিলাম "দাদুর চিন্তা" নামের কবিতাটি আবৃত্তি করবো। কিন্তু স্টেজে উঠে মাথায় সব এলোমেলো হয়ে গেলো। নিজের পরিচয় দিয়ে দাদুর চিন্তার পরিবর্তে কাঠবিড়ালী কবিতাটি বলে চলে এলাম। অনেক বছর পরও সেই কবিতা এখনও আগের মতোই মুখস্ত আছে। সবার জন্য তা এখানে দিলাম।
কাঠবিড়ালী
কাঠবিড়ালীর নাচন দেখে
খোকন ছুটে যায়,
রাতের বেলায় আকাশ হাসে
ফুটফুটে জোৎস্নায়।
দিনের বেলা ফুলের গন্ধে
উঠানটি যায় ভরে,
মৌমাছিরা মধু লোটে
মুখে মুখে করে।
Comments (10)