- আমি ব্র্যাক ব্যাংকের নিচে দাড়িয়ে আছি। আয়।
আমি নিচে নেমে গেলাম। দেখি ব্র্যাক ব্যাংকের বুথের পাশে একটা টুলে আম্মা বসে আছে। এগিয়ে গেলাম তার দিকে।
- এটা কি গেঞ্জি পড়েছিস?
- যেটা সামনে পেয়েছি সেটা পড়েছি।
কিছুক্ষণ তাকিয়ে রইলো আমার দিকে। আমি প্রহর গুনছি।
- তুই আমাকে দেখতে না গেলেও আমি তোকে ঠিকই দেখতে আসবো। তুই আমার অনেক আদরের সন্তান।
বলে আমাকে জড়িয়ে ধরল আম্মা। কান্না করছিল। পাথর আমার হৃদয় গলল না।
- তুই বলেছিলি সুচনার সামনে অফিস। আমি এই কড়া রোঁদে এতোটা হাঁটতে হল।
আমি অনেক কিছু বুঝানোর চেষ্টা করলাম। আম্মা বুঝল না। আমি রাস্তাটা পার করে দিলাম। প্রায় ৭০ বছর বয়সী আমার আম্মা। আজও টাকা নিয়ে চিন্তা করতে হয়। তাঁর বাবার অনেক টাকা ছিল, তাঁর স্বামীরও অনেক টাকা ছিল, আমি হয়তো এতো টাকা রোজকার করতে পারি না। সে তিন মাস বয়সে বাবাকে হারিয়েছে, স্বামী তাকে অনেক অত্যাচার করেছে আর আমিও একটা ব্যর্থ সন্তান।
হয়তো একদিন আম্মা থাকবে না। কেউ সারাজীবন থাকে না। আম্মার একদিন শ্বাস চলে গেছিল। শ্বাস আসার পর প্রথম তাঁর জিজ্ঞাসা ছিল আমার অতি কই?
Comments (8)