চারিদিকে নিস্তব্ধ, জনমানবহীন এক মহাশূন্য প্রান্তর। মাথার ওপর অনন্ত আদিম আকাশ যেন পৃথিবীর সব রহস্য বুকে চেপে থমকে আছে। সেখানে গিয়ে একা দাঁড়ালাম আমি; ফুসফুস ভরে নিলাম আদিম প্রকৃতির সেই তীব্র অবশ করা ঘ্রাণ।কিন্তু মুহূর্তেই ওলটপালট হয়ে গেল সব। হঠাৎ এ কী তীব্র যন্ত্রণা! আমার বক্ষ বিদীর্ণ করে, ভেতর থেকে কে যেন এক হিংস্র রুদ্র গর্জন করে উঠল! আমি বোবা হয়ে গেলাম, কোনো এক অদৃশ্য চণ্ড হাত এসে চেপে ধরল আমার কণ্ঠনালী। আমি চিৎকার করছি, বুক ফেটে যাচ্ছে আমার—অথচ সেই হাহাকার কেউ শুনল না, কেউ টেরও পেল না। ভেতরটা অনবরত ছিঁড়ে যাচ্ছে, রক্ত ঝরছে গলগল করে; অথচ একবিন্দু লাল রঙও কেউ দেখতে পাচ্ছে না।আমার নয়ন দুটি তখন ধু-ধু সাহারা মরুভূমির মতো শুষ্ক ও তৃষ্ণার্ত। মুখ খুলতেই তপ্ত রক্তের স্রোত উথলে উঠছে। ঠিক তখনই দূর দিগন্ত থেকে কালবৈশাখীর মতো ঝড়ের বেগে ধেয়ে এলো এক ছায়ামূর্তি! পলকে পলকে পাল্টাতে লাগল তার রূপ। অবশ বিভাবরীর মতো সে আমার সামনে এসে দাঁড়াল, তারপর ঠোঁটে আঙুল ছুঁইয়ে এক অলৌকিক ফিসফিসানিতে বলে উঠল—"সু... সু... সু..."।নীরবতার সেই চাদর বিছিয়ে দিয়ে নিমিষেই সে মিলিয়ে গেল দূর হাওয়ায়। আর ঠিক তখনই চারপাশের শূন্যতা এক মেঘগম্ভীর কণ্ঠে আমায় ডেকে বলল—"ওহে কবি!"। তাকিয়ে দেখি, চারপাশের চণ্ড প্রকৃতি আমায় এক নিবিড়, উত্তপ্ত আলিঙ্গনে জাপটে ধরেছে। লীন হয়ে গেল কবির শেষ আকুতি।
Comments (0)
No comments yet. Be the first to comment.