আজ বহুদিন হয়ে গেল আমি কলম ধরি না। এক অন্ধকার জগতে হারিয়ে গিয়েছিলাম—মুখে কথা নেই, চোখে জল নেই, দেহে শুধু প্রাণটাই রয়েছে। মোমবাতি আর হারিকেন যেমন নিভে যাওয়ার সময় হয়, সেই সময়ের মতো আমার দেহে প্রাণ রয়েছে; শুধু হৃদয়টা যা ধিকিধিকি করে চলে, ওই কচ্ছপের হাঁটার গতির মতো।জানি না কোন সে বিরহে, জানি না কোন সে ব্যথায়! আর তুমি সেই কথা কখনো মনে রাখোনি। আজ তোমার পথ আলোয় ভরা, কত সুরভিত, কত গালিচা পাতানো, কত পুষ্প ছড়ানো সেথায়! তোমার মনে থাকবেই বা কীভাবে সে কথা? আমার পথ কাটায় ভরা জেনেও আমি সে পথে হাঁটি। কাঁটার আঘাতে আমি জর্জরিত হওয়া সত্ত্বেও কখনো খেয়াল করি না যে আমার প্রচণ্ড ব্যথা। আমার দেহ আজ অচল হয়ে পড়েছে; আমি এমনই এক জগতে হারিয়ে ফেলেছি নিজেকে, অথচ তুমি সেই পথেই ঠেলে দিয়েছ, কভু ফিরে চাওনি।আমার অপরাধ শুধু একটাই ছিল—তোমার কথায় তোমাকে আমার হৃদয় দিয়ে দিয়েছিলাম। আজ সেটার প্রায়শ্চিত্ত হিসেবে তুমি একটু একটু করে গোলাপের পাপড়ির মতো ছিঁড়ে ফেলে, পদদলিত করে গেছ। কত লাঞ্ছিত, কত অপমানিত হয়েও আমি প্রতিবাদ করতে পারিনি। অথচ তুমি কত যত্নে সেটা তুলে নিয়েছিলে! ফেলে দিয়ে চলে গেলে না, পদদলিত করে গেলে, কখনো ফিরে চাইলে না। আমি পড়ে রইলাম সেথায়। কত ঝড়, কত বৃষ্টি চলে গেল—কভু টের পেলাম না।হঠাৎ তোমার পদধ্বনি শুনে আবার আমার হৃদস্পন্দন জেগে উঠল! চেয়ে দেখি, কেউ নেই। শুধু বাতাসের দীর্ঘশ্বাস আর অন্ধকারের চাদর আমায় জড়িয়ে ধরে। আমি আবার ফিরে যাই আমার সেই চেনা স্তব্ধতায়, যেখানে কষ্টের কোনো শব্দ নেই, শুধু রয়ে যায় এক অনন্ত অপেক্ষা।
Comments (0)
No comments yet. Be the first to comment.