কি যেন বলেছিলে আমায়—আমি কেমন আছি তাইতো? এই একটা প্রশ্নের উত্তর আমি দিতে পারি না, খুঁজে পাই না কি বলবো। কি, হাসি পাচ্ছে তাই না? হেসো না। এই দেখো লিখতে গিয়ে একটা পাখি আসলো দোরে, আমার সামনে, যা চলে গেল সেও। যাক সে কথা, কি বলছিলাম, কি জানি কোন সুখে অথবা কোন দুঃখে আজ এমন হয়ে গেছি, না হাসি পায় না কান্না আসে, কোন মতেই আর কথা ফুটে না। গলায় প্রচণ্ড ব্যথা, আজ সবকিছু ছাড়িয়ে গেছে কোথায় জানি, নিজেকে পাই না খুঁজে। জানি না কোন সে পাষাণ জাদু করে গেছে, যার ফলে আমি পাষাণ হৃদয়ের হয়ে গেছি।
এসব ভাবতে ভাবতে ঐ প্রকৃতির মাঝে শুয়ে আছি, চারিদিকে নিস্তব্ধ। দেখি হঠাৎ করেই পাখিরা কুজন করছে, উত্তুরে হাওয়া বইছে, আমাকে পুষ্পমালা পরিয়ে ফুলেরা ঝরে পড়ে আজ আমার পথের মাঝে, আমার পায়ের সামনে। আমাকে তারা 'কবি' বলে সম্বোধন করে। জানি না সবাই একসাথে গেয়ে উঠলো, ফুলেরা ঝরছে, হাওয়া এসে উড়িয়ে নিয়ে ফেলছে আমার গায় পরম আনন্দে। আমি ভাবলাম, আমি যে কবি সেটা এরা জানে কি করে? আমি তো শুধু নিজেই জানি। যাক, আমি পালিয়ে যাবো অমনি, জাপটে ধরে বলে উত্তুরে হাওয়া—"যেও না হে প্রিয়তম।" নিচে দেখি পায়ে তৃণলতা জড়িয়ে ধরে ফেলল।
আমি বললাম, "কেন মোরে যেতে দাও না? কেন এই স্বাগতম জানাও মোরে? আমি কে? আমি তো তোমাদের কেউ নই। আমাকে তো ওরা ভালোবাসে না, সে তো চলে গেল, ওরা তো লাঞ্ছিত করে। তোমরা আমাকে যেতে দাও, আমি কারো কেউ নই, বিদায় দাও মোরে।"
তারা সমস্বরে বলে ওঠে—"আমাদের কবি, তোমার জন্য প্রতীক্ষায় আছি আমাদের প্রিয় হে। আজ আমাদের এই প্রতীক্ষা সফল হলো, আমাদের এই সংবর্ধনা স্বীকার করো, যেও না।" বলে আমাকে জাপটে ধরে এসে কোন শূন্যতা।
বলি আমি, "আমি পাষাণ, হৃদয় মোর নাচে না, আর কথা কয় না । কোথায় যেন চলে গেছে, আর কখনো ফিরে আসবে না। আমায় ছেড়ে দাও , আমায় যেতে দাও। আর ডেকো না হে মোরে। আমি পাষাণ, আমি পাষাণ, আমি আজ পাষাণ, আমি নির্লিপ্ত, আমার হৃদয় নেই। যাও চলে যাও সবাই, আমাকে যেতে দাও।"
যেতে দাও।"
Comments (0)
No comments yet. Be the first to comment.