সিংহাসনে বসে রাজা
মুখটা করে হাড়ি,
ভাবছে বসে ল্যাজটা তার
এপাশ ওপাশ নাড়ি।
ভয়ে ভয়ে এলেন কাছে
মন্ত্রী মহাশয়,
ল্যাজ উঁচিয়ে বলল জােড়ে
হুলাে রাজার জয়।
ধীরে ধীরে জিজ্ঞাসিলেন
বলুন মহারাজ,
উদাস কেন মনটা বেজায়
কি হয়েছে আজ?
ভাবছে মনে হুলো রাজা
সভাসদের কাছে,
যায় কি বলা এমন কথা
লজ্জা মিলে পাছে।
তক্তপোষে আরাম করে
সেদিন বিকেল বেলা,
ঘুমিয়ে ছিলেন রাজা মশাই
নাক ডাকিয়ে মেলা।
কর্তা গিন্নী গরম তেলে
যেই ঢেলেছেন মাছ,
সুবাস এল ধীরে ধীরে
দূরের থেকে কাছ।
ভোজন রসিক হুলো রাজার
ঘুম পালাল শেষে,
দর্পভরে এলেন রাজা
তপ্ত ঊনূন পাশে।
পাবদা, টেংরা, খলসে, পুঁটি
খায়তো প্রতিদিনই,
ইলিশ দেখে হুলো রাজার
জিভে এল পানি।
যেমনি ভাবা তেমনি কাজ
দেখতে গেলেন চেখে,
কর্তা গিন্নী ভীষণ রেগে
আগুন দিলেন মুখে।
হুলো রাজা দৌড়ে পালায়
মনটা করে ভারী,
মুখটা যদিচ গেছে বেঁচে
ছাই হল সব দাড়ি।
কোথাকার এক নেংটি ইঁদুর
দেখে এমন দশা,
ভেংচি কেটে হি হি করে
করল শুরু হাসা।
হুলো রাজা গেলেন রেগে
ধমক দিলেন জােড়ে,
আমার সাথে মস্করা তোর!
পাঁজি ইঁদুর ওরে!
অপমানে জ্বলছে মেজাজ
সিংহাসনে বসে,
ইচ্ছে তো হয় পাঁজিটারে
দন্ড দিতে কষে।
অনেক ভেবে হুলো রাজা
হুকুম দিলেন শেষে,
মন্ত্রী মশাই ঢাক পিটিয়ে
জানান দেশে দেশে।
হুলো রাজার দেশেতে আজ
আইন হয়েছে জারী,
হি হি করে হাসতে মানা
রাখতে মানা দাড়ি।।
(শিশুতোষ)
Comments (10)