নব রবি কিরণে,
শুভ্র সুন্দর প্রীতি উজ্জ্বল নির্মল জীবনে-
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের এই আহ্বান পূর্ণতা লাভের আরেকটি পর্যায় প্রায় উপস্থিত। ইতিহাস এবং ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় মানুষ কিছু আনন্দ এবং স্মৃতিকে আপন করে নেয়। আর এ আপন করে নেওয়ার বিভিন্ন স্তর এবং সময়ের পথ ধরে সংস্কৃতির বিকাশ। প্রতিটি জাতি ও সভ্যতা সংস্কৃতির মাধ্যমে খুঁজে পায় তার নিজস্ব অনুভূতি এবং স্বকীয় বৈশিষ্ট্য। বাংলাদেশী ও বাঙালী জাতি হিসেবে, ইতিহাস এবং ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় আমাদের এমন একটি উৎসব হল পহেলা বৈশাখ। পহেলা বৈশাখ হলো বাংলা নববর্ষের প্রথম দিন। আর মাত্র চারদিন পরে আগে ঘটা করে পালিত হবে বাংলা নববর্ষ। এই নববর্ষ উদযাপনে দিন দিন নিত্যনতুন অনুষঙ্গ যুক্ত হচ্ছে এবং আমাদের সমাজ, সভ্যতা, সংস্কৃতির সাথে যা মিশে যাচ্ছে। এই বাংলা নববর্ষকে সামনে রেখে জমে উঠেছে কেনাকাটা। উৎসবমুখর পরিবেশে দেশি ফ্যাশন হাউসগুলোতে এখন ক্রেতার উপচেপড়া ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। পহেলা বৈশাখকে ঘিরে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে রাজধানীর বিভিন্ন শপিংমল। নববর্ষের রঙে রাঙানো এখন রাজধানীর প্রতিটি ফ্যাশন হাউস। পাঞ্জাবি, শাড়ি, কুর্তা, সালোয়ার-কামিজ, ফতুয়া ও ছোটদের বাহারি রঙের পোশাকে সাজানো সব দোকান। তরুণীরা শাড়ি এবং সালোয়ার-কামিজের সঙ্গে মিলিয়ে কিনছেন গহনা। পোশাকের পাশাপাশি বিক্রি হচ্ছে মাটির পুতুল, হাঁড়ি-পাতিল, ঢোল, মুখোশ ইত্যাদি। শপিংমল কিংবা মার্কেটের পাশাপাশি এসব দেশজ পণ্য পাওয়া যাচ্ছে মেলা এবং ফুটপাতে, বিশেষত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায়। এই নববর্ষের বিশেষ আকর্ষণ জামদানি পাঞ্জাবি। এ ছাড়া মসলিন ও সুতি পাঞ্জাবি রয়েছে। এ বছর সবচেয়ে জনপ্রিয় হচ্ছে গামছা শাড়ি। আরও আছে টাঙ্গাইল, হাফ সিল্ক এবং বালুচরি শাড়ি।
Comments (6)