জীবন এমনই—
কখনো ধানের গন্ধ মেখে সন্ধ্যা নামে ঘাসের ভিতর,
কখনো শহরের জানালায় জমে থাকে অচেনা বৃষ্টির মুখ;
আমরা হেঁটে যাই—
কোথায় যাব জানি না,
তবু পায়ের নিচে পথ জন্ম নেয় অন্ধকারের মতো।
যে দিনগুলো চলে গেছে,
তারা কি সত্যিই চলে গেছে?
পুরোনো কোনো নদীর মতো তারা বয়ে যায় নীরবে—
মাঝে মাঝে ভেসে আসে
শৈশবের উঠোন, মায়ের ডাক,
দূরের কোনো পাখির ডানায় লেগে থাকা বিকেলের রোদ।
কত মানুষ এসেছিল জীবনে—
কেউ ছিল কুয়াশার মতো,
কেউ শীতের সকালের রোদের মতো অল্পক্ষণ;
কেউ রেখে গেছে একটি দরজা,
যে দরজা খুললেই আজও
ভেতর থেকে বেরিয়ে আসে এক দীর্ঘ নীরবতা।
আমরা ভেবেছিলাম সুখ
একদিন নিশ্চয়ই এসে দাঁড়াবে আমাদের দরজায়;
কিন্তু সুখ তো কোনো অতিথি নয়—
সে ছিল পথের ধারে ফুটে থাকা ঘাসফুল,
যার দিকে তাকাবার অবসর
আমাদের ছিল না।
এখন বয়সের ভেতর দিয়ে রাত নামে ধীরে;
জানালার বাইরে দেখি—
একটি পাতা বাতাসে কাঁপছে,
যেন পৃথিবীর সমস্ত হারানো কথা
সে একা মনে রেখেছে।
তবু জীবন থামে না।
ভোরের আগে যে অন্ধকার
সবচেয়ে গভীর হয়ে ওঠে,
তারও ওপারে কোনো এক অদৃশ্য মাঠে
সূর্যের আলো জমতে থাকে।
তাই ফিরে আসি—
নিজের কাছে, মানুষের কাছে,
এই মাটির কাছে, এই আকাশের কাছে;
যতটুকু বেঁচে থাকা এখনও বাকি,
ততটুকু আলো হাতে নিয়ে
হেঁটে যাই অনন্ত সকালের দিকে।
হয়তো জীবন মানেই—
সব হারিয়েও
একদিন হঠাৎ বুঝতে পারা,
পৃথিবী এখনও সুন্দর;
এবং আমাদের জন্য
আরও একটি ভোর অপেক্ষা করে আছে।
🖊️**মেহেদী হাসান অপু **

Comments (0)
No comments yet. Be the first to comment.