বিষণ্নতার নিজস্ব কোনো রং নেই।
তবু কিছু কিছু বিকেলকে দেখলে মনে হয়,
পৃথিবীর সমস্ত ধূসরতা বুঝি সেখানে এসে জমেছে।
মানুষ তখন খুব স্বাভাবিকভাবেই বেঁচে থাকে—
সকালে ঘুম থেকে ওঠে, পরিচিত পথে হাঁটে,
কথা বলে, হাসে, এমনকি অন্যের দুঃখে
নিজের সমস্ত মমতা উজাড় করে দেয়।
শুধু নিজের ভেতরে যে একটি ঋতু বদলে গেছে,
তার খবর কাউকে জানাতে পারে না।
কখনো জানালার পাশে বসে থাকতে থাকতে মনে হয়,
পৃথিবী কত সহজে তার সমস্ত কাজ করে যাচ্ছে।
গাছের পাতায় রোদ পড়ছে,
দূরের মাঠে পাখিরা নেমে আসছে,
নদীর জল বয়ে যাচ্ছে তার নিজস্ব গন্তব্যে।
অথচ মানুষের মনের ভেতর এমন কিছু পথ থাকে,
যেখানে দিনের পর দিন কোনো আলো পৌঁছায় না।
বিষণ্নতা বোধহয় সেইসব কথার নাম,
যেগুলো কাউকে বলা হয়নি;
সেইসব বিকেলের নাম,
যেখানে কেউ আসবে ভেবে অপেক্ষা করা হয়েছিল;
সেইসব মানুষের নাম,
যাদের হারিয়ে ফেলার পরও
পৃথিবীকে তাদের অনুপস্থিতির কথা বোঝানো যায়নি।
রাত গভীর হলে স্মৃতিরা আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
পুরোনো কোনো কণ্ঠস্বর, পরিচিত কোনো মুখ,
অথবা বহুদিন আগে ফেলে আসা একটি মুহূর্ত—
হঠাৎ সমস্ত বর্তমানকে সরিয়ে
আমাদের ফিরিয়ে নিয়ে যায় এমন এক সময়ে,
যেখানে আর কখনো ফিরে যাওয়া সম্ভব নয়।
তখন বোঝা যায়, সব হারানোর কোনো শব্দ হয় না।
কিছু হারানো নিঃশব্দে মানুষের ভেতর বাসা বাঁধে;
বছরের পর বছর তার সঙ্গে ঘুমায়,
তার সঙ্গে জেগে ওঠে,
তার সঙ্গে হেঁটে যায় জনাকীর্ণ রাস্তা ধরে।
আর বাইরে থেকে কেউ বুঝতেও পারে না—
এই যে মানুষটি এত স্বাভাবিকভাবে কথা বলছে,
তার মনের কোথাও হয়তো
একটি পুরোনো বাড়ি পড়ে আছে,
যার দরজা খোলার চাবি তার কাছে আছে,
কিন্তু সেখানে ফিরে যাওয়ার সময় আর নেই।
বিষণ্নতা আসলে সব সময় কাঁদার নাম নয়;
কখনো কখনো পৃথিবীর সমস্ত সৌন্দর্য চোখের সামনে নিয়েও
কোনো এক অজানা অভাবে নীরব হয়ে থাকার নাম।

Comments (0)
No comments yet. Be the first to comment.