বিধবা মায়ের সাজে সেজেছে আমার স্বপ্নের শহর
নগর বৃক্ষশুন্য,
দোয়েলের মিষ্টি সুরেলা কন্ঠ শুনতে পাইনা।
শিকারীর তীরের আঘাতে ছটফট করা কোন বালিহাঁস
কাটাগলা নিয়ে কাতরানো কোন বনমোরগ
খসে যাওয়া পালকসমেত রুগ্ন ক্লেদমাখা দেশী হাঁস
অথবা রাস্তায় ধারে মাথা গুঁজে শুয়ে থাকা
নির্জীব উসকোখুসকো কুকুরের বেওয়ারিশ ছানার মতো
আমি যেন দস্তয়ভস্কির লেখা থেকে উঠে আসা
যন্ত্রনায় কাতর কোন আত্মা।
সকলেই বিমূর্তের গোলকধাঁধায় আটকে গেছি
সন্ত্রাসবাদ-নৈরশ্যের মিথ থেকে চোখ ফেরানো কঠিন।
কুয়াশার চাদর সরিয়ে ভোরের যাত্রায় দেখি
ধর্ষিতা এক নারীর উলঙ্গ শরীর
ক্লান্তির মধ্যাহ্নে চেনা চত্বরে একজন মানুষ
নিষ্পদ শুয়ে আছে উপুড় হয়ে
রক্তের লাল প্রবাহ গড়িয়ে যাচ্ছে।
সে ধারা লাল, উষ্ণ, গতিশীল
প্রতিদিন রংতৃষ্ণ চোখ দ্যাখে লাল খুনিরং।
পৃথিবীর সবকিছু বিবর্ণ আমার কাছে
রঙধনুকে মনে হয়,
সাদাকালো একটি বাঁকা তলোয়ার
সাগরের নির্লাভ জল কদাকার
দীর্ঘকার তিমির মিছিলে
সবুজ জমিন ধূসর মত্ত হাতির তান্ডবে।
শাশ্বত দৃষ্টির সীমানায় আজন্ম অন্ধকার
নিজের পাপে নিজেই ডুবে মরেছি
হৃদয়ে চিরন্তর হাহাকার।
Comments (6)