রাতে ঘুম হয়নি ঠিকমত। বাইরে কুকুরের ঘেউ ঘেউ প্রচন্ড বিরক্ত লাগছিলো। ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখি ভোর পাঁচটা বাজে। এখন একটু ঘুমোতে না পারলে সারাটা দিন খারাপ যাবে। বিছানা ছেড়ে উঠলাম দরজার বাইরের কুকুরগুলোকে তাড়িয়ে দেওয়ার জন্য। কিন্তু দরজার বাইরের দৃশ্য দেখে কুকুরগুলোর ঝগড়ার কারণ বুঝতে বাকি রইলো না।

একটা সদ্য ভূমিষ্ঠ বাচ্চা আমার দরজার সামনে পড়ে আছে। একটা কুকুর বাচ্চাটাকে রক্ষা করার চেষ্টা করছে বাকি দুইটা কুকুরের থেকে। এই কুকুরটার ভয়ে বাকি দুইটা কুকুর বাচ্চার কাছে ভিড়তে পারছে না। পাশের কোন হাসপাতাল বা ক্লিনিক থেকে হয়তো বাচ্চাটা এবর্শন করে জীবিত অবস্থায় ফেলে দেওয়া হয়েছে। সারা রাতের অসম্পূর্ণ ঘুম হারিয়ে গিয়ে আমার মস্তিষ্ক পুরোপুরি সজাগ হয়ে গেলো। বাচ্চাটার হার্টবিট চেক করলাম, এখনও চলছে। এই মুহূর্তে বাচ্চাটাকে কি করবো বুঝতে পারলাম না।

কুকুরগুলোকে ওখান থেকে তাড়িয়ে ঘরে ঢুকলাম। গতকালের কেনার নতুন টি-শার্ট টা নিয়ে তাতে বাচ্চাটাকে জড়ালাম। এরপর ভেতরে এনে আমার বিছানায় শুইয়ে দিলাম। রূপকথার গল্প গুলোতে শিশুর রাজকন্যার যেমন বর্ণনা দেয়, বাচ্চাটা দেখতে ঠিক সেই রকম। আমি বুঝে উঠতে পারছিলাম না, তাকে কোথায় রাখবো, কি খাওয়াবো!

বান্ধবী তন্নীকে ফোন দিয়ে জানালাম ব্যাপারটা। মেয়ে মানুষ, ও হয়তো বাচ্চাকাচ্চা সম্পর্কে ভালো বলতে পারবে। তন্নী প্রথমে ভীষণ অবাক হয়েছিলো আমার বাচ্চা পাওয়ার কথা শুনে। পরে বললো বাচ্চা ওর কাছে রেখে দিতে, আমি রাজি হইনি। কিন্তু ভেবে দেখলাম, আমার কাছে তো বাচ্চা রাখার মতো পরিবেশ নেই। তারপর আমি বাচ্চাকাচ্চা সামলাতেও পারবো না একা। এগুলো মেয়েদের কাজ। তন্নীকে বললাম বাচ্চাটা তার কাছেই থাকবে কিন্তু বাচ্চার সমস্ত খরচ আমি দেবো। ও রাজি হলো। তন্নীর মায়ের মতামত জানতে চাইলাম। তন্নী বললো, ও নাকি আগেই ম্যানেজ করে নিয়েছে।

বাচ্চার জন্য ডায়াপার, দুধ, ফিডারের বোতল, তিনটা জামা, মোজা আর সোয়েটার কিনে, বিকেলে বাচ্চাটাকে নিয়ে তন্নীদের বাড়িতে গেলাম। তন্নী আগে থেকেই বেশ এক্সাইটেড ছিলো। বাচ্চা দেখা মাত্রই আমার কোল থেকে নিয়ে বাচ্চাটার গালে চুমু খেতে শুরু করে দিলো। আমি ধমক দিয়ে বললাম, "ওকে গোসল করানো হয়নি, আগে গোসল করিয়ে নে পরে আদর করিস।" পাশে তন্নীর মা দাঁড়িয়েছিলেন। আন্টি আমাকে বসতে বলে রান্না ঘরে ঢুকলেন। তন্নী আমার পাশের চেয়ারটাতে বসে বললো, "জানিস? মনে হচ্ছে এটা আমারই বাচ্চা।" আমিও দুষ্টামি করে বললাম, "বাচ্চাটা তোর সেটা বুঝলাম, কিন্তু বাচ্চার বাবা কে?" ও আমার পিঠে একটা কিল বসিয়ে দিলো।

একটু পরেই আন্টি চা-নাস্তা নিয়ে ঘরে আসলেন। আমি চা শেষ করে বেশিক্ষণ বসলাম না। সন্ধ্যায় টিউশনির কথা বলে বেরিয়ে আসলাম। বাচ্চাটার সুবাদে তন্নী এবং ওর পরিবারের সাথে আমার ভালো একটা সম্পর্ক তৈরি হয়ে গেলো। তন্নী শুধু কলেজ টাইমে বাচ্চাটাকে আন্টির কাছে রাখতো। বাকি সময়টা ও নিজেই বাচ্চার সমস্ত দায়িত্ব পালন করতো। আমিও দিনে ২-৩ বার করে ওদের বাসায় যেতাম বাচ্চার কি লাগবে, কি অবস্থায় আছে, এইসব দেখার জন্য।

তন্নী আমাকে বললো, "এই শোন! বাচ্চার তো এখনও কোনো নাম রাখা হয়নি। তুই একটা ভালো নাম ঠিক করে দে তো।" আমি তখন চট করে বলে ফেললাম "তুগ্নি! তোর নামের সাথে দারুন মিলবে।" তন্নীরও হয়তো নামটা পছন্দ হলো। ও বললো, "হ্যাঁ, ঠিকই তো। আমার মেয়ের নাম তো আমার সাথেই মিলবে।"

দেখতে দেখতে সাত মাস কেটে গেলো। বাচ্চাটাও বেশ বড় হয়ে গেলো। বসে বসে খেলাধুলা করে, মাঝে মাঝে অসম্ভব সুন্দর করে হাসি দেয়। তুগ্নির কারণে আমার আর তন্নীর মাঝেও সম্পর্কটা বেড়ে গেলো। বন্ধুত্ব থেকে অন্য কিছু! মাঝে মাঝে তন্নী আমাকে মেয়ের বাবা বলে ডাকে। আমিও বাবুর আম্মু বলি। আস্তে আস্তে তুগ্নিও একটু আকটু কথা বলতে শিখলো। তন্নীকে আম্মু বলে ডাকতো আর আমাকে আব্বু। আন্টি এসব নিয়ে কখনোই বিচলিত হতেন না। তন্নীও যেন পুরাপুরি ওর মায়ের অধিকার পেলো।

হঠাৎ একদিন তন্নীর মায়ের ফোন আসলো, "বাবা, দুপুরে একটু বাসায় আসতে পারবা?" আমি বললাম, "ঠিক আছে আন্টি, আসবো।" আন্টি মাঝে মাঝেই আমাকে এইভাবে ফোন দিয়ে বাসায় যেতে বলে। বাচ্চার বা উনাদের যেকোনো প্রয়োজনে। আজকেও তেমনটাই। বিকেলে তন্নীদের বাসায় গেলাম। ▫️

বাসাটা সুন্দর করে গুছিয়ে রাখা। আন্টি আমাকে ডেকে বললেন, "তোমার আঙ্কেলের আজ ঢাকা থেকে আসার কথা ছিলো। সে একটা কাজে আটকে গেছে। আর তাছাড়া তোমাকে এমনিতেও ডাকতে হতো। সন্ধ্যায় তন্নীকে ছেলেপক্ষ দেখতে আসবে। আমি ব্যস্ত থাকবো। বাচ্চাকে তো কেউই রাখতে পারবো না।"
--"আচ্ছা আন্টি, বুঝতে পেরেছি। আপনাকে এটা নিয়ে ভাবতে হবে না। আমি তুগ্নীকে নিয়ে বাইরে থেকে ঘুরে আসি। আপনারা এদিকটা সামলান।"
কথাটা বলে আমি আর দাড়ালাম না। তুগ্নীকে কোলে নিয়ে বেরিয়ে গেলাম।

তন্নীকে আমি ভালোবাসি আরও অনেক আগে থেকেই। বাচ্চাটা পাওয়ার পরে তাই ওকেই প্রথম জানিয়েছিলাম। আর তন্নীও সবকিছু জানে। শুধু আমাকে ও নিজ থেকে কখনও ভালোবাসার কথা জানায়নি। আন্টিই হয়তো চায় না আমরা এত মেলামেশা করি আর বাচ্চাটাও বড় হচ্ছে। তন্নীকে আম্মু ডাকে, আর আমাকে আব্বু। বিষয়টা আন্টির হয়তো ভালো লাগে না। তাই মেয়ের ভবিষ্যতের কথা ভেবে সরাসরি বলতে না পারলেও আকার ইঙ্গিতে বুঝিয়ে দিলেন। আমিও না বোঝার ভান করে অনেক কিছু বুঝে নিলাম। যা হবার তাই হবে। তারা একটা বছর এই বাচ্চার জন্য অনেক করেছে। আর কত??
আমি তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতাবোধ রেখেই মনকে স্থির করলাম।

তন্নীদের বাড়ি থেকে বের হয়ে মেসে না গিয়ে সরাসরি বাড়িতে আসার ট্রেন ধরলাম। আমার মাকে বাচ্চার কথা বলেছিলাম অনেকবার। উনি বলেছিলেন তার দুঃসম্পর্কের এক বোনের বাচ্চা হয়না ১৫ বছর যাবৎ। তাকে যেন বাচ্চাটা দিই। আমি সেসব ভাবতে ভাবতেই বাড়িতে ফিরছি। তন্নীর সাথেও আমার কথা হয়নি। ফোন করে ফোন বন্ধ পেলাম। হয়তো ও নিজেও চায় না আমাদের সম্পর্ক আর এগিয়ে যাক। বাচ্চার জন্য ওর কতটুকু মন খারাপ সেটা আমি না জানলেও বাচ্চাটা ওর মা কে হারাচ্ছে এটা ভেবে আমার বেশি কষ্ট হচ্ছে। ট্রেনে থাকার পুরো সময়টা তুগ্নী আমার কোলেই ঘুমিয়ে ছিলো।

বাড়িতে এসেছি দুইদিন হয়ে গেছে। তুগ্নী মাঝে মাঝেই কান্নাকাটি করছে আম্মুর কাছে যাবে বলে। তন্নীকেও কয়েকবার ফোনে ট্রাই করে পেলাম না৷ আন্টির ফোনে ফোন করবো সেই সাহসও পাইনি।
মনে মনে ভাবলাম, তন্নীর হয়তো বিয়ে হয়ে গেছে। তুগ্নীর জন্য ওর কষ্ট হচ্ছে। কিন্তু কাউকে বলতে পারছে না। এখন তুগ্নীকে আমার কাছে রাখাটা বেশ কঠিন হয়ে যাচ্ছে। মা-ও বারবার বলছে আমি যেন তার বোনকে বাচ্চাটা দিয়ে আসি। আমি একবার বলেই ফেললাম, "ও আমার কাছেই থাকবে। আমার কষ্ট হলেও ওকে আমি দেখে রাখবো।" এরপর মা আর কিছু বলেনি। কারণ মা সবকিছুই জানে।

এভাবে আরও পনেরো দিন কেটে গেলো। আমি মেসে না গিয়ে বাড়িতেই থাকলাম। তন্নী নিজের নতুন সংসার নিয়ে হয়তো ভীষণ ব্যস্ত। তুগ্নীর কথা ওর মনেও নেই। একটা মেয়ে একটা বাচ্চাকে যেভাবে আগলে রাখতে পারে। ছেলেরা সেভাবে পারে না। যদিও মা আমাকে এব্যাপারে যথেষ্ট সাহায্য করে।
আমি মা কে বললাম,"তোমার সেই বোনকে খবর দাও। বাচ্চাটা এসে নিয়ে যাক।" মা বললো,"ভেবে বলছিস তো?"
--"হ্যাঁ মা।"
--"কষ্ট হচ্ছে না তোর?"
আমি চুপ করে রইলাম। কথা বলার ভাষা হারিয়ে ফেলেছি। প্রথমে তন্নীকে হারালাম। এখন তুগ্নীকে হারাতে হবে।

তারও তিনদিন পর একটা রং নম্বর থেকে ফোন আসলো। রিসিভ করতেই, "আশিক, তোমাদের বাড়িটা কোন গলির মাথায়?"
--"মেইন রোডে নামার পরেই বামপাশের গলি ধরে কিছুদুর এগিয়ে একটা চায়ের দোকান৷ দোকানদারকে জিজ্ঞেস করলেই বাড়ি দেখিয়ে দেবে। কিন্তু আপনি কে..." বলতে বলতেই ফোন কেটে গেলো।
কন্ঠ বেশ পরিচিত আমার। তন্নীর মায়ের। তবু পরিচয় জানতে চাইলাম। কিন্তু উনি আমাদের বাড়ির ঠিকানা দিয়ে কি করবেন? ভাবতে ভাবতে মিনিট পাঁচেক পরে তিনজন মানুষ আমাদের বাড়ির উঠানে এসে হাজির। তন্নী, তন্নীর মা আর বাবা। আমি তুগ্নীকে পাওয়ার পর এই দ্বিতীয় বারের মত বিস্মিত হলাম।

কথা বলার ভাষা নেই। কি বলবো বুঝতে পারছি না।
তন্নী এসেই দৌড়ে ঘরে ঢুকে তুগ্নীকে নিয়ে ব্যস্ত হয়ে গেলো। ওকে জড়িয়ে ধরে সে কি কান্না। তখন মনে হচ্ছিলো, নিজের মেয়েকে হারিয়ে ফিরে পাওয়ার পরে মায়েরা যেমন করে। এদিকে তন্নীর মা আমার হাত ধরে বললেন, "বাবা আমাদের মেয়ে যে এইরকম করবে আমরা বুঝিনি? ভুলটা আমারই ছিলো।"
--"কেন আন্টি? কি হয়েছে?"
--"সেদিন তুমি চলে আসার পর ছেলেপক্ষ ওকে দেখতে আসলে তারা পছন্দ করেছিলো। কিন্তু তন্নী রাজি হয়নি৷ ছেলের বাবা কারণ জানতে চাইলে ও বলেছিলো,"আমার এক বছরের একটা বাচ্চা আছে। আমার স্বামী আছে।" ওই মুহূর্তে আমি তাদের সামনেই তন্নীকে জোরে চড় মেরেছিলাম। ছেলেপক্ষ আর কিছু জানতে না চেয়ে তখনই উঠে চলে গেলো। আর যাওয়ার সময় আমাকে অনেকগুলো কথা শুনালো।

তন্নীও তার কিছুক্ষণ পর তখন বাসা থেকে বেরিয়ে গিয়েছিলো। ওর ওপর আমার প্রচন্ডরকম মেজাজ খারাপ হওয়ায় আমি আর খেয়াল করিনি ও কোথায় যাচ্ছে। তার কিছুক্ষণ পরে খোঁজ নিতে গিয়ে জানতে পারি আমার মেয়ে রিক্সায় এক্সিডেন্ট করে রাস্তায় পড়ে ছিলো। কয়েকজন ওকে তুলে হাসপাতালে নিয়ে গেছে। আমিও তখন হাসপাতালে ছুটলাম। তন্নীর বাবাকে ফোন দিয়ে সব জানালাম। তন্নী কয়েক ঘন্টা অজ্ঞান হয়ে ছিলো। এরপর জ্ঞান ফিরলেই তুগ্নীকে খোঁজ করছিলো। আর তোমার কথা বলছিলো। কিন্তু আমি লজ্জায় আর তোমাকে ফোন দেইনি। আর তন্নীও জানতো না তুমি তুগ্নীকে নিয়ে গেছো। তন্নীর মোবাইলটা এক্সিডেন্টের সময় হারিয়ে গেছে। তাই ও নিজেও তোমাকে ফোন দিতে পারেনি। ডাক্তার বলেছিলো, পনেরো দিন বিশ্রামে থাকতে। ওর হাটুতে আর মাথায় প্রচন্ড আঘাত পেয়েছে।

বারবার শুধু কান্নাকাটি করছিলো তুগ্নীর জন্য। পরে আমি বলেছিলাম সুস্থ্য হলে তারপর তুগ্নীর সাথে দেখা করিয়ে দেবো। কিন্তু তুমি যে বাড়িতে চলে এসেছো সেটাও আমি জানতাম না। তোমাকে একবার ফোনে ট্রাই করেছিলাম। কিন্তু পাইনি। আর তন্নীর অসুস্থতার কারণে কি করবো কিছুই বুঝতে পারছিলাম না। ওর অস্থিরতা দেখে আমি নিজেই অস্থির হয়ে গিয়েছিলাম। তোমার আঙ্কেলের কাছে সবকিছু বললাম। সে আজ তোমার মেসে গিয়ে সেখান থেকে তোমাদের বাড়ির ঠিকানা নিয়ে তারপর আমরা একসাথে চলে এলাম। আমরা আসলে মেয়ের কষ্ট দেখতে পারছি না। আর সে যে তোমাকে অনেক ভালোবাসে সেটাও বুঝতে পারছি। এখন আমরা চাচ্ছি তোমার সাথে আমাদের মেয়েকে বিয়ে দিতে। আর বাচ্চাটাও তাহলে বাবা-মা পাবে। এখন তোমার মতামতটা জানতে চাই।"

এতক্ষণ একভাবে আমি আন্টির কথা শুনেই যাচ্ছি। কিছু বলার শক্তি পাচ্ছি না। শুধু এইটুকু বললাম, "আমার মায়ের সাথে কথা বলেন।"
ওনাদের ভেতরে নিয়ে আপ্যায়নের ব্যবস্থা করা হলো। তুগ্নীকে কোলে নিয়ে তন্নী আমার সামনে এসে দাড়ালো। এতক্ষণ ওর দিকে আমি ভালভাবে খেয়ালই করিনি। চোখমুখ শুকিয়ে গেছে। মুখের একপাশের আঘাতের চিহ্ন এখনও আছে। চোখে পানি টলটল করছে। আমাকে বললো, "তুমি এমন নিষ্ঠুর কেন রে? মানুষ মরে গেছে নাকি বেঁচে আছে সে খবর রাখো? আমার বাচ্চাটাকে নিয়ে চলে এসেছো? একটাবারের জন্যও আমার অনুমতি নিয়েছো?"

আমি বললাম, "তুই থেকে হঠাৎ তুমি!!"
--"আজকে বিয়ে হলে নিজের স্বামীকে তখন তুই বলে ডাকতে পারবো বলো? লোকে কি বলবে??"
--"তুমি তো ঠিকই বলেছো বাবুর আম্মু?"

✍🏻 Jan 16, 2023