স্যারিনের বিয়ের ঠিক আগের দিন সন্ধ্যায় তার বান্ধবী ফ্লোরিডা বিয়ের খবর পেলো। মোবাইল ফোনটা বন্ধ থাকার কারণে কোনভাবেই স্যারিনের সাথে যোগাযোগ করতে পারেনি। বান্ধবীকে গিফ্ট দেবে বলে তখনই শপিং মলের দিকে গেলো। কিন্তু ঐদিন বৃষ্টির কারণে সমস্ত দোকান আগেই বন্ধ হয়ে গেছে। ফ্লোরিডা গাড়িতে করে বাসায় ফিরছিলো। হঠাৎ ওর চোখে পড়লো, দূরে আরেকটা শপিং মল। এর আগে ওটা কখনও চোখে পড়েছে বলে মনে হচ্ছে না ওর। হয়তো খেয়াল করা হয়নি।
শপিং মলের সবগুলো দোকান খোলা। ফ্লোরিডা বান্ধবী স্যারিনের জন্য একটা ব্লু ড্রেস কিনে বাসায় ফিরলো।
পরদিন ফ্লোরিডা স্যারিনের বিয়েতে উপস্থিত হলো। প্রায় সারাক্ষণই বান্ধবীকে সময় দিয়েছে। বাইরে থেকেও অনেক অতিথি আর আত্মীয়-স্বজনেরা উপস্থিত ছিলো। সবার সাথে ঠিকমত কথাও বলা হয়নি স্যারিনের। বিকালে সবাই অনুষ্ঠান শেষে বিভিন্ন ধরনের গিফ্ট দিলো। ফ্লোরিডা তার কেনা ব্লু ড্রেসটা স্যারিনকে দিলো। বান্ধবীর দেওয়া গিফ্টটার প্রতি আগ্রহ দেখিয়ে সে প্যাকেট খুলে ড্রেসটা বের করলো। ড্রেসের দিকে তাকিয়েই স্যারিনের চোখ আটকে গেলো। বেশ কিছুক্ষণ একভাবে তাকিয়ে রইলো। কেমন জানি ওকে ভীষণ আকর্ষণ করছে ড্রেসটা। তখনই ও বিয়ের দামী ড্রেসটা খুলে ব্লু ড্রেসটা পড়ে নিলো। ড্রেসের প্রতি এমন আগ্রহ দেখে বান্ধবী ফ্লোরিডাও বেশ খুশি হলো।
রাতে ওই ড্রেস পড়েই স্যারিন ঘুমাতে গেলো। পাশে তার স্বামী রিও। রাত তিনটার সময় হঠাৎ স্যারিনের ঘুম ভেঙে গেলো। কে যেন শরীরের চারপাশ দিয়ে চেপে তাকে মেরে ফেলতে চাইছে। অন্ধকারে ঠিকঠাক দেখতেও পারছে না। মুখটাও বন্ধ হয়ে গেছে। চিৎকার করার মত উপায় নেই। ওর সন্দেহ হলো স্বামী রিওর প্রতি। কিন্তু এখন নিজেকে তো বাঁচতে হবে। বেশ অনেকক্ষণ ধরে ছটফট করলো। এরপর ধীরে ধীরে স্যারিন তার ব্লু ড্রেসের মধ্যে পুরো মিশে গেলো।
পরদিন সকালে রিও ঘুম থেকে জেগে দেখে পাশে স্যারিন নেই। শুধু ব্লু ড্রেসটা বেডের ওপরে পড়ে আছে। রিও বেড থেকে উঠে স্যারিনকে খুঁজতে লাগলো। সমস্ত জায়গায় খুঁজেও ওকে পাওয়া গেলো না। নিজের ঘরে ফিরে এসে দেখলো, ড্রেসের বুকটা একা একাই শ্বাস নেওয়ার মত উঠানামা করছে। এরপর ও ড্রেসটা হাতে তুলে নিলো। ড্রেসের ভেতর থেকে হার্টবিটের আওয়াজও শোনা যাচ্ছে। রিও চিন্তায় আর ভয়ে ড্রেসটা জানালা দিয়ে ছুঁড়ে নিচে ফেলে দিলো।
এর ঠিক দশদিন পরে সিটি ক্লিনার এসে রিওর বাড়ির পেছনে পড়ে থাকা ব্লু ড্রেসটা দেখতে পেয়ে নিয়ে গেলো। এরপর সে এক টেইলরের কাছে ওটা বিক্রি করে দিলো। টেইলর তার অর্ডারের সমস্ত ড্রেসের সাথে ব্লু ড্রেসটাও শপিং মলে ডেলিভারী করে আসলো। এইটা আসলে সেই শপিং মল, যেখান থেকে ফ্লোরিডা ওই ড্রেসটা কিনেছিলো।
ওইদিন রাতে আবার প্রচন্ড বৃষ্টি শুরু হলো। শহরের সব শপিং মল বন্ধ হয়ে গেলো। তখন একটা গাড়ি এসে ঐ শপিং মলের সামনে থামলো। গাড়ি থেকে একটা মেয়ে নেমে এসে সারা দোকান ঘুরে ঐ ব্লু ড্রেসটাই পছন্দ করলো। আগামীকাল তার বান্ধবী প্রেডোনার বিয়ে।
—-মেহেদী মারুফ
Apr 01, 2020

Comments (0)
No comments yet. Be the first to comment.