১৯৫০ আমার মা আজিমগঞ্জ প্যাসেঞ্জার এর প্রথম শ্রেণি-তে বসে।গা ভর্তি গয়না, পায়ে আলতা, জবাকুসুম মাখা এক ঢাল কালো চুল, পরনে জ্যাঠার হাতে বোনা লালপাড় তাঁতের শাড়ী, মায়ের কাছে কোনও টিকিট নেই, সেই সময় টিটি বাবুরা প্রথমশ্রেণীর মহিলাদের কাছে কখনই টিকিট চাইতো না এটাই অপ্রকটিত, সাথে পুরুষ মানুষ আছে।
১৯৭৫ আমরা সবাই চলোছি মামার বাড়ি, মায়ের সাথে। মালিহাটি, ছোট গণ্ডগ্রাম , নিচু প্লাটফর্ম সিঙ্গল লাইন । লাইনের এক পারে মালিহাটি অন্য পারে তালিবপুর, তাই পরে মালিহাটির পরিবর্তে মালিহাটি তালিবপুর রোড নামকরণ হয়।
মামা কখনও কখনও গরুর গাড়ী পাঠাতো, না হলে হেঁটে প্রায় তিন কিলোমিটার রাস্তা, গরমে প্রচণ্ড ধুলো আর বর্ষায় হাঁটু অবধি এঁটেল মাটির কাদা।
মামারা আমাদের খুব ভালোবাসতো, বিশেষ করে বড় মামি, বড় মামির রান্নার হাত ছিল খুব ভালো, সব রান্নাই খেতে দারুণ হত, বড়ি দিয়ে মাছের টক তো অমৃত মুখ ছেড়ে যেত।দুধের চাঁচি (দুধ জ্বাল দেওয়ায় পর কড়াইএ লেগে থাকা দুধের অবশিষ্ট) দিয়ে মুড়ি দারুণ খেতে অল্প চিনি ছড়িয়ে।
সকাল ৭:২৮ বারহারোযা প্যাসেঞ্জার আগেই এসে দু-নম্বর প্লাটফর্মে দাঁড়িয়ে থাকে, একনম্বরে ডাউন ট্রেন এলে তারপর ছাড়ে, ট্রেন ছাড়তেই ডালপুরী আর কাঁচাগোল্লা সাথে ডালডার টিন থেকে ফ্রি শীতল জল। গরম চা হাঁকে বারবার, তখনও আমাদের বাড়িতে চায়ের পর্ব শুরু হয়নি, তাছাড়া তখন আমরা চা খাবার পক্ষে অনেক ছোট।
গরাদহীন জানালা দিয়ে ইঞ্জিন দেখা কখনও গার্ড কামরা, দেখতে গিয়ে চোখে কয়লার গুঁড়ো তার উপর মায়ের বকুনি। বাদাম ভাজা, ঝুরি ভাজা, তার পর কামরা ম্ ম্ করা মশলামুড়ি।
কাটোয়ায় ইঞ্জিন খুলে জল ভরতে যাওয়া। অতঃপর অহমেদপুরের ছোট লাইনকে বড় লাইনের পেটের মধ্যে পুরে জলহীন বালুময় কাশফুলে ভরা অজয় পার।
অবশেষে কসরত করে সিঁড়ি ভেঙে নিচু প্লাটফর্মে। নয়নজুলির উপর সাঁকোতে হাত পেতে দাঁড়িয়ে টিটি বাবু, কেউ টিকিট, কেউ পাঁচ পয়সা, মা টিটিবাবুর হাতে একটি সিকি রাখে, ছয় জন আমরা আদতে, টিটি বাবু অম্লান বদন!!
Comments (0)
No comments yet. Be the first to comment.