১৯৭৬- ১৪ই জুলাই সৈনিক স্কুলের প্রথম সকাল: সকালে উঠে প্রাতঃকর্ম করে দেখি কলে জল নেই, কোনো ক্রমে হাফপ্যান্ট লজ্জা ঢাকার মত করে তুলে বাথরুমের বাইরে করিডরে প‍্যান্ট ধরে কাঁদতে লাগলাম, এক সিনিয়র দাদা ক্লাস টেন (পরে অর্মির বড় পোস্টে রীটায়ার করেন) এক জাগ জল দিয়ে আমায় বাঁচালেন।
আগেরদিন স্কুলে আসার পর নানান পর্বের পর রোল নাম্বার পাওয়া গেল 907/P অর্থাৎ সিরিয়াল নম্বর 907 যেটা চিরদিন আমার হয়ে থাকবে। আর 'পি' মানে 'প্যাটেল হাউস', সেই সময় চারটে হাউস ছিল, পাশাপাশি প্যাটেল ও টেগোর একটু তফাতে চিত্তরঞ্জন আর তিলক। হাউস কালার যথাক্রমে মেরুন, গ্রীণ, ব্লু, আর গ্রে।

রোল নাম্বার পাওয়ার পর এক ট্রাঙ্ক পোশাক-আশাক তা দাগতে হলো মার্কিং ঈঙ্ক দিয়ে, যা আগেই আনতে বলা হয়েছিল, দাদা সুন্দর করে ঘণ্টা খানেকে কাজ পুরো করলো।
সেই সময় ১৯৭৬ সালে প্রায় দু'হাজার টাকার জিনিসপত্র– সবই চারটে করে, সাদা ট্রাউজার, সাদা জামা, শর্টস, স‍্যান্ডো গেঞ্জি, মোজা, জাঙ্গিয়া, রুমাল এছাড়াও কালো জুতো, ফুটবল বুট, রানিং স্পাইক, কেডস (দু জোড়া) হকি স্টিক, বাথরুম স্লিপার (মানে হাওয়াই চপ্পল জানলাম), কুইল্ট (মানে লেপ তাও জানলাম) কুইল্ট কভার, হোল্ডওল আর স্টীল ট্রাঙ্ক। সুন্দরবনের এক বন্ধু ট্রাউজার মানে পাজামা বলে চার জোড়া পাজামা এনে হাজির।স্কুল থেকে পাওয়া গেল বেড শিট, বেড কভার, টাওয়াল, ম‍্যাট্রেস, খাকি স্কুল ড্রেস, গেমস ভেস্ট (হাউস কালার অনুযায়ী), তাছাড়া শীতের পোশাক পুলওভার, ব্লেজার ও টাই,যার বেশির ভাগই সিনিয়ররা চুরি করে নিয়েছিল মাস না ঘুরতেই!!

আমাদের স্থান হল ISC block III তিন তলায়।রুমে পাঁচটি সিঙ্গেল চৌকি, চারটি ওয়াল বিল্ট ওয়ারড্রোব।আমার রুমমেট, সুন্দরবনের একজন, এক জনের বাবা সাঁওতালডীহ থার্মাল প্লান্টে কর্মরত, এক জনের বাবা বোকারো স্টীল প্লান্টএ কর্মরত, আর একজন পুরুলিয়ার ভূমিপুত্র, মেটামুটি আমরা তিনজন গাঁইয়া।

সকালের রেজিস্ট্রেশন পর্ব শেষ হলে ডাইনিং হলে দুপুরের খাবার। বিশাল ৩৯০ জন বসতে পারে এমন ডাইনিং হল, ১৩ টা করে পাঁচ রো টেবিল, প্রতি টেবিলে ছয় জন, হাউস কালার অনুযায়ী বাসার নিয়ম।

খাওয়ার পর থেকেই আমার প্যালপিটেশন শুরু হয়ে যায় , এবার তো মা, চলে যাবে, এর আগে মা ছাড়া কোনোদিন থাকিনি ইনফ্যাক্ট মায়ের আঁচলের তলায় ছিলাম এতদিন! সেই শুরু হল আমার কান্না পর্ব ---