2005 30 শে এপ্রিল - গোপাল বাবুর বিয়ে, আগে শুধু গোপাল ছিলাম, যবে থেকে বাড়ী করা শুরু করলাম আবাসনের মান্যগণ্যরা আমায় গোপালবাবু বলে সম্বোধন করতে শুরু করলো। জাতে উঠলাম মনেহয়। আগেও চিনতো কিন্তু গণ্য করতো না।
বৈশাখ মাসের প্রচন্ড গরম তার মধ্যে বিয়ে, মাস খানেকের মধ্যে সব কমপ্লিট, দুপক্ষের গুরুজনেরা একটুও সময় অপচয় করতে রাজী হয়নি, যদি আবার মতি বদলে যায়। সকাল থেকে যেমনি রোদ তেমনি গরম, হঠাৎ করে দুপুরে ঝড় বৃষ্টি, তারপর সমস্ত বাংলা বাতানুকুলিত , যতই হোক 'লর্ড কৃষ্ণের' বিবাহ বলে কথা।
২৭ বছড় বয়সে শুরু হয়ে, একচল্লিশ বছরে এসে শেষ হ'ল অবশেষে, আমার পলিসি ছিল 'বিয়ে হলে ভাল, না হলে আরো ভালো'।আমার বন্ধু (এখন প্রাক্তন ব্রিগেডিয়ার) একটি বাংলা পত্রিকার বিজ্ঞাপন দেখে চিঠি লিখেছিল। তখন চৈত্রের মাঝামাঝি , রাজধানী প্রায় দিল্লি ঢুকছে ফোন এল তখন । 'উঠ ছুড়ি তোর বিয়ে',দেখাশোনা ইত্যাদির পর ৩০শে এপ্রিল বিয়ের দিন ঠিক হল!
আমার তো আবার নানান বাহানা । রেজিস্ট্রি করে বিয়ে করতেই হবে, কোনো অনুষ্ঠান মানে সাতপাক, মন্ত্রপাঠ চলবে না, দেনা পাওয়া নেওয়া যাবে না। একমাত্র সন্তান হলে চলবে না, চাকরি করা মেয়ে চাই,লম্বা হতে হবে, ফর্সা হতে হবে। কারণ 'কাকের মত' বাচ্চাকাচ্চা আমার এক দম 'না পসন্দ'।উপরের কথাগুলোর বিশেষ কারণ আছে ,আমি বেশ কালো তাই ছোট বেলা থেকেই আমি যেন কালত্বের মাপকাঠি -দাদার জন্য মেয়ের দেখা হল তো মেয়ে কেমন না 'ভায়ের থেকেও এক পোঁচ কালো", পাশের বাড়ির নাতনী হয়েছ, তা কেমন দেখতে হয়েছে - 'বড় বড় চোখ, মাথায় এক ঢাল চুল কিন্তু গায়ের রঙ খোকার থেকেও কালো '॥ছোটবেলা থেকেই শুনে আসছি কেলকুটে ছেলে, গায়ে একটাও তিল নেই। সেই জন্য কালোর উপড় একটু ইনসিকিওরড।
ঝড় বৃষ্টির পর পরিবেশ বেশ মনোরম, একটা ব্যান্ড নিউ ক্য়োলিশ গাড়ী করে বিকেল বিকেল রওনা হওয়া গেল,পাত্রির কাকা (পথপ্রদর্শক) আর দুজন আমার গাড়ীতে বাকি ৭/৮ জন একটা মিনি বাসে। একটা ডার্ক প্যান্ট আর ঘি রঙের একটা সর্ট পাঞ্জাবী আমার পরনে!
ঝড় বৃষ্টির ফলে কারেন্ট অফ যেমন হয় মফস্বলে, ঘুরঘুটে অন্ধকার,মজে যাওয়া অঞ্জনা নদীর পাশ দিয়ে ইঁট ফেলা রাস্তা, ঝড় বৃষ্টিতে বাঁশ গাছ বিপদজনক হয়ে রাস্তার উপর, তার মধ্যে জোনাকির চমক।
তা জেনারেটরের আলোকিত বিয়ে বাড়ী পৌঁছনো গেল, সামনে আমার গাড়ী পিছনে মিনি বাস। আমার গাড়িতে কোনো ফুলের সাজ ছিল না , না আমার বর বেশ! গাড়ী থেকে নেমে দাঁড়িয়েছি, সবাই দৌড়ে এসেছে শাঁখ বাজছে, উলুধ্বনি,কেউ বর খুঁজে পাচ্ছে না, সামনের গাড়ীতে নেই দেখে পিছনের গাড়ীতে খুঁজছে।
ইঠাৎ শ্বশুর মশায় আমকেই জিজ্ঞাস করে “বর কোথায়”? (তিনি আমাকে একবারই দেখেছিলেন)আমি উত্তর দিলাম "আমিও তো খুঁজছি "!
আমি বেশ অপ্রস্তুত! অবশেষে বরকে পাওয়া গেল! একঝাঁক শালী স্বাগত জানিয়ে ভিতরে নিয়ে গেলে॥
Comments (0)
No comments yet. Be the first to comment.