একদিন হঠাৎ: ২৬/০৯/২৬
রাজধানীর প্রথম শ্রেণী,
ক্যুপের লোয়ার বার্থে আধশোয়া,
হাই -টি খাওয়া শেষ, সুপের অপেক্ষায়।
জ্যোৎস্না দেখছি জানালা দিয়ে,
হঠাৎ প্রচণ্ড ঝাকুনি দিয়ে দাঁড়িয়ে গেল ট্রেনা।
সব জানলা, দরজা ভেদ করে কেবিনে ঢুকে পড়লো
রক্ত আর লোহা পোড়া গন্ধ।
নীলগায়ের সাথে সংঘর্ষ টুন্ডলা আর কানপুরের মাঝে।
দুমড়ে যাওয়া 'কাউ ক্যাচার’ শুধরে,
সাফ-সুতরো করে ট্রেন ছাড়তে ঢের দেরি।
প্রথম শ্রেণীর নিরাপত্তা থেকে নেমে পড়ি-
দুধ সাদা জ্যোৎস্না-ভাসা গমের ক্ষেত,
চাঁদমামা গমের শীষের ডগায় তখনও আটকে।
একা হেঁটে গিয়ে দাঁড়াই কাকতাড়ুয়ার পাশে,
ওকি আমার নির্বুদ্ধিতা দেখে মুচকি হাসলো ---
এক জোড়া ময়ূর বাবলা গাছের ডালে পালক শানছে!
মাঠের আল ধরে হেঁটে চলি ক্ষেতের গভীরে ---
আরও গভীরে, আখ ক্ষেতের পাশে।
হঠাৎ বিকট শব্দ করে, সব নির্জনতা বিদীর্ণ হলো,
হুইসেল দিয়ে রাজধানী চলতে শুরু করলো।
আমি তখন অনেক দূরে দাঁড়িয়ে সুবাবুল গাছের নিচে।
দেখি 'এফ' কেবিনে আমার টাঙানো কোট, টাই,
বার্থের উপর আমার ‘ডেলসি’ ব্রিফকেস,
সিটের নিচে আমার ‘হাশপাপি’ জুতো, পাড়ি দিচ্ছে,
এক প্লাবন জ্যোৎস্নায়, মাঠের মাঝে আমাকে নিঃসঙ্গ একা রেখে---
Comments (0)
No comments yet. Be the first to comment.