1989: 12ই ডিসেম্বর-ঠিক মনে নেই কে আমাদের পৌঁছে দিয়েছিল আমাদের নিজের নিজের অফিসে,প্রথমে 'কফি কর্নার' সেখানে দুজনের পোস্টিং, এক প্রবীণ ইন্সপেক্টর আমাদের ভালই অভ্যর্থনা জানালো,কফি খাওয়ালো। মনে পড়ে গেলো অনেকদিন আগে এখানে 'ঝোল ঝোল চিলি চিকেন' দিয়ে ডিনার করে পুরুলীয়ার ট্রেন ধরে ছিলাম। (এর আগে এয়ারপোর্ট রেস্টুরেন্টের অপূর্ব চিলি চিকেন খেতে অভস্ত ছিলাম)।
যাই হোক এর পর ভিড় ঠেলে ঘিঞ্জি একনম্বর প্লাটফর্মের মাঝামাঝি সংকীর্ণ সিড়ি বেয়ে দোতালায় – ডাইনিং কার অফিস – অফিসে ঢুকেই আত্মারাম খাঁচা - এখানে বসতে হবে! লম্বা সরু কড়িডোরে, পর পর কুলি রেস্ট রুম, হেলথ সেন্টার অফিস, আর আমাদের অফিস( DCI)হেড একজন মহারাষ্ট্রের লোক মোদো মাতাল, আর বেসুরো গায়ক, আমাকে চেলা বানাতে চেষ্টা করেছিল।
আমাদের অফিসটা প্রায় ২৫ ফুট লম্বা আর ১২ ফুট চওড়া। অর্ধেকটা স্টীলের আলমারি দিয়ে পার্টিশান করা, সেখানে মেঝে থেকে ছাদ পর্যন্ত্য পুরোনো বিলবই ডাই করা আর সেখানে বাস একটি মার্জারি ও তার তিন ছানার , দিন রাত ম্যাও ম্যাও করে চলেছে।
অপরদিকে চারটি প্রাচীন বার্মা টিকের টেবল, রেলের সিটকভার রেক্সিনে মোড়া দৈন্যতা ঢাকতে, গুটিকয় ভাঁঙা ভাঁঙা চেয়ার, রং চটা বিবর্ণ স্টীলের আলমারী, ধূলো ভর্ত্তি কিছু খাতাপত্তর। তিনজন প্রাগ- ঐতিহাসিক অফিস স্টাফ একজন আবার ধুতি পরা, প্রধান একজন সাউথ ইন্ডিয়ান, আপাত দৃষ্টিতে বেশ আন্তরিক। কোন ওয়াশরুম নেই, বেগ পেলে নিচে প্লাটফর্মে পাবলিক ইউরিনাল। মন খারাপ হয়ে গেল বলা চলে-ডিপ্রেশড!!
কোনো গাড়ীর ইনচার্জ এলেই দশ বিশ টাকা দিয়ে চা আসবে, তার পর মহান শিল্পীর তৈরী অতি ক্ষুদ্র ভাঁড়ে ভাঁড়ে বিতরন হবে, দিনে বারংবার এই পর্ব চলতে থাকবে। দিলদার ইন্সপেক্টর হলে সাথে বিস্কুট আর 'নেভীকাট'। তখন রেলে সিগারেট বিক্রি হতো আর অফিসেও খাওয়া যেতো।প্রাথমিক পর্ব শেষ হলে পরেরদিন আসানসোল এক্সপ্রেসে রেস্ট গীভারের ডিউটি পাওয়া গেল।
পরের দিন বিকেল বেলা বাক্স প্যাঁটরা নিয়ে হাজির, সে এক অনন্য অভিজ্ঞতা। এখানে প্যান্ট্রি কাম বুফে কার, ছোটা হাজিরি বড়া হাজিরি, পটে চা, টুপির তলায় মাথার উপর গরম ফিসফ্রাই পাচার। রাতে বুফে টেবিলের নীচে আধ ঘুম, সকালে বিদ্ধস্ত হয়ে বাড়ি ফেরা, কঠিন হাল! কোথায় এসে পরলাম॥
Comments (0)
No comments yet. Be the first to comment.