১৯৭০-৫ই অথবা ৬ই নভেম্বর মোড়ের মাথার সাঁকোর উপর দাঁড়িয়ে আছি, সাথে অরো অনেকে। আজ বাবাকে হাসপাতাল থেকে ট্যারাবাঁধে নিয়ে যাবে। সেখানকার মা মনষা নাকি খুব জাগ্রত। রাতে এসে বাবার গা থেকে বিষ টেনে নেবে।
বাবাছিল কোয়াক ডাক্তার, বেশ নাম ডাক, সকালবেলা বেড়িয়ে একচাকা গ্রামে গিয়ে ডাক্তারীর সঙ্গে চাষের দেখা-শোনা, সব জমিই ভাগে দেওয়া। ডাক্তারের ফিজ্ বেশীর ভাগই কাইন্ডে কারণ গ্রামের বেশীর ভাগই বেশ গরীব। বাবা ছিল দশাশই ছ'ফুটের উপর লম্বা, কালো, খেটোধুতি, মা দুধেআলতা,চারফুট ন'য়-শেষ পর্যন্ত্ ঐ রঙ ছিল।
কালীপূজার সন্ধ্যায় গ্রাম থেকে ফেরার পথে যোগানন্দের ঝুপড়ির কাছে চন্দ্রবোড়ার গায়ে পা - মোক্ষম ছোবল ! বাবা খালি পায়ে প্রায় ৭/৮ মাইল পথ রোজ হাঁটতো, (একটা নিউকাট ছিল শ্বশুর- বাড়ী যাওয়ার জন্য)। জানিনা কেন বাবা ডাক্তার হয়েও (যেমনি হোক) ওঝারপাল্লায় পরেছিল, ওঝার ঝাড়ফুঁকের পর বাঁধন দিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় হাসপাতালে, ততক্ষনে বেশ দেরী হয়ে গেছে। পাড়ার ছেলেরা সাপটা ধরে হাঁড়ি করে বাড়ীতে এনেরেখেছিল, তার কি গজরানি!
সাতদিন ছিল হাসপাতালে,সারা পায়ে ফোস্কা ফোস্কা, ভুলবকছে সবসময়, টোটাল নার্ভাস ব্রেকডাউন॥
এক দিন দেখতে গিয়েছিলাম হাসপাতালে। বাঁচার আশা প্রায় নেই, তখন হাসপাতাল বা এন্টিভেনাম এত উন্নত ছিল না। তাই শেষ চেষ্টা "ভগবান ভরসা"-ট্যারাবাঁধের মা মনষার থান। মা হত্যাদিয়ে পড়ে আছে। বাবাকে পাশে মাটিতে শোয়ানো, পুরুতমশাই নির্দেষ দেয় সাপকে ছেড়ে দিতে হবে, সে এসে রাত্রে বিষ তুলে নেবে - সে সাপ সাতদিন পর ছাড়া পেয়ে সাঁই সাঁই করে জঙ্গলে।
বাবা আর ফেরেনি ---
Comments (0)
No comments yet. Be the first to comment.