১৯৮৯ পূজোর আগে আগেই RRB থেকে জানতে পারলাম পূর্বরেলে ক্যেটরিং সুপারভাইজার পদে নিয়োগ পেয়েছি। ঐ অফিসেই ইন্টারভিউ হয়েছিল, ছিল আমার হোটেল ম্যানেজমেন্টের প্রফেসর ও রেলওয়ে আধিকারিক, নিজের বিষয়ে বলার সময় ছোটবেলায় বাবাকে হারানোর কথা ছিল, তখনই বোর্ড মেম্বারদের রিঅ্যাকশন দেখে আমি নিশ্চিত ছিলাম আমার চাকরি পাকা। হোটেল ম্যানেজমেন্ট করলেও
কোনদিনই হোটেলে কাজকরার ইচ্ছে ছিলানা, ভেবেছিলাম দিদিদের মত কেবিন ক্রু হব(ফ্লাইট পার্সার)।ইন্ডিয়ান এয়ারলাইন্স তখন শুধু Departmental candidatesদেরই পার্সার নিত তাই, traffic assistant পদে পরীক্ষা দিলাম, দুবার পাশ ও করলাম একবার রেজাল্ট আউট হল না অন্যবার প্যানেল হল। রেলের নিয়োগ পত্র আর আইএর প্যানেল একইদিনে ডাক মারফত পেলাম।তিন বছর পর প্যানেল রদ,ততদিনে আমি রেলে কাজ করছি।
রেলে আমারা প্রফেশনালী- কলিফায়েড দ্বিতীয় ব্যাচ ক্যাটরিং ডিপার্টমেন্টে আমরা ৬জন সিলেক্টড , পূজার আগে থেকে রোজ অফিসে গিয়ে হত্য দিয়ে পরে থাকি মেডিকেল করার জন্য, সন্ধ্যায় বাড়ী ।এই করতে করতে পুজো এসে গেল মেডিকেল আর হলোনা,পূজোর পর কিছু BR.Singh কিছু হাওড়া অর্থপেডিকে মেডিক্যল হল। চেষ্টের x-ray date পেতে এক মাস সময় লাগল । তারাতারী করার রিকোয়েস্ট করাতে ডাক্তারবাবু বেজন্মা বলে গালিগালাজ করল, সেই ডাক্তার এখন বাইপাসের এক খ্যাতনামা হাসপাতালে কর্মরত,কয়েকবার বার্ষিক মোডিকাল করাতে গিয়ে দেখাহল! যাইহোক সব পর্ব শেষ হতে ডিসেম্বরের শুরু।
সরকারি চাকরিতে যোগদিতে ক্যারেক্টার সার্টিফিকেট লাগে কোর্টে থেকে এস ডি এম সই করেন।( জানিনা এ কি দুর্বদ্ধ নিয়ম , যে আমাকে জীবনে দেখেননি সে আমার চরিত্রের নিশ্চয়তা দিচ্ছে!!) সকাল থকে চেষ্টা করেও শিয়ালদহ কোর্ট থেকে সংগ্রহ করা গেল না, শেষ পর্যন্ত ব্যাঙ্কসাল ফোর্ট থেকে সন্ধের পর পাওয়া গেল, তখন জমা দেওয়ার শেষ সময় পার হয়ে গেছে । ৮০ টাকায় রফা হলেও ১৩০ টাকার বদলে সার্টিফিকেট হাতে পেলাম, এক পারিবারিক বন্ধুর সাহায্য(যিনি জীএম অফিসে কাজকরতেন ) জমা দিতে এবং পরবর্তীতে পুরো সহায়তা করতে । সেই শুরু ঘুষ দেওয়ার।
পূজোর পর থেকে ঘুরতে ঘুরতে ডিসেম্বেরর মাঝামাঝি সব পর্ব শেষ হল।
এবার অন্য উৎপাত। তখন কম্পিউটার সে ভাবে আসেনি,Cyclostyle কাগজে টাইপ করে ঘুড়িয়ে ঘুড়িয়ে প্রিন্ট নেওয়া হত, বিহারী বড়বাবু বললেন Cyclostyle এর লম্বা লাইন, আমাদের টার্ন আসতে মাস ঘুরে যাবে, ৫০ টাকা দিলে বাইরে থেকে কিনে আজই পোস্টিং অর্ডার বের করা যাবে। ১৯৮৯ সালে ৫০ টাকা অনেকই, সবাই (৬ জন)মিলে দিলাম ,অফিস অর্ডার বের হল। আবার ঘুষ! ১২/১২/৮৯ রেলের কর্মী হলাম।
Comments (0)
No comments yet. Be the first to comment.