আজ ১৯ শে মে।
ক্যালেন্ডারের পাতায় একটা সাধারণ সংখ্যা,
অথচ আমার জিপকোড আর সেলফোন স্ক্রিনের গভীরে
এটা একটা জ্বলন্ত সেমিকোলন।
১৯৬১ সালের সেই দুপুরটা আজ আর কেবল ইতিহাসের ধুলো নয়,
সেটা একটা রিল, যা অবিরাম ঘুরে চলেছে আমাদের নিউরনে।
বরাক উপত্যকার শিলচর স্টেশন চত্বর—
সেদিন কোনো ট্রেনের সাইরেন বাজেনি,
বেজেছিল বুলেটের কর্কশ অর্কেস্ট্রা।
কমলা, চণ্ডীচরণ, কানাইলাল কিংবা হিতেশ—
ওরা তো কোনো তাত্ত্বিক ছিলেন না,
ওরা ছিলেন স্রেফ এক-একটা জীবন্ত অভিধান,
যাঁদের বুক চিরে ফিনকি দিয়ে ছুটেছিল স্বরবর্ণের মিছিল।
রাষ্ট্র সব সময়ই একমুখী স্ক্রিপ্ট লিখতে চায়,
চেয়েছিল সব কণ্ঠস্বরকে একটা নির্দিষ্ট কোডে বেঁধে ফেলতে।
কিন্তু ভাষা তো কোনো খাঁচায় বন্দী অ্যালগরিদম নয়!
তাকে বুলেট দিয়ে আনইনস্টল করা যায় না।
সিপাহীদের রাইফেলের নল থেকে যখন সিসা গলছিল,
তখন স্টেশন চত্বরের মাটি শুষে নিচ্ছিল এ দেশের সবচেয়ে দামি কালি—
বুকের তাজা রক্ত।
আজকের এই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা আর গ্লোবাল ভিলেজের যুগে,
যখন ভাষা বদলে যাচ্ছে ইমোজি আর শর্টফর্মে,
তখনো ১৯ শে মে একটা থমকে যাওয়া ট্রাফিক সিগন্যাল।
যা আমাদের মনে করিয়ে দেয়—
মায়ের মুখের একটা আলতো ‘কী রে?’ কিংবা ‘কেমন আছিস?’-এর দাম কতখানি।
কতটা রক্ত দিলে তবে নিজের অক্ষরে কাঁদা যায়, নিজের শব্দে হাসা যায়।
শিলচর স্টেশনের সেই প্ল্যাটফর্ম আজো ভিজিয়ে দেয় আমাদের ভার্চুয়াল রিয়েলিটি।
আজ কোনো শোকের কালো ব্যাজ নয়,
আজ চেতনার স্ক্রিনে জ্বলজ্বল করুক সেই এগারোটি নক্ষত্র।
আমরা প্রতিদিন যে ভাষায় টেক্সট লিখি, যে ভাষায় স্বপ্ন দেখি,
তার প্রতিটা কমার পেছনে লুকিয়ে আছে এগারোটি বুকভাঙা চিৎকার।
শ্রদ্ধা , ১৯ শে মে।
তুমি শুধু ক্যালেন্ডারের পাতা নও,
তুমি আমাদের অস্তিত্বের ব্লু-প্রিন্ট।
Comments (5)