সূর্যাস্তের আলোয় লালচে আভা ছড়িয়ে পড়েছিল গ্রামের উপর। ধানক্ষেতগুলো হলুদে ঝলমলে, দূরের নদীতে সন্ধ্যার রূপ। কিন্তু গ্রামের মানুষের মুখে ছিল না কোন সুখের আভাস।

একে একে গ্রামের মানুষ মারা যাচ্ছে। কেউ জানে না কেন। কেউ বলে, দেবতা রুষ্ট, কেউ বলে, অভিশাপ।

গ্রামের মাঝখানে এক বৃক্ষ। বৃক্ষটির নীচে পাথরের তৈরি একটি মন্দির। গ্রামের বিশ্বাস, এই মন্দির এবং বৃক্ষই গ্রামের রক্ষাকর্তা।

একদিন, এক যুবক মন্দিরে ঢুকে প্রার্থনা করতে লাগল। সে গ্রামের দেবতার কাছে বিনীতভাবে প্রার্থনা করল, "হে দেবতা, গ্রামের মানুষকে বাঁচাও। আমাদের পাপ ক্ষমা করো।"

হঠাৎ, মন্দির কাঁপতে লাগল। ধোঁয়া ভরে উঠল চারপাশে। আর তারপর, এক আকাশবাণী ভেসে এলো।

"হে গ্রামের মানুষ, তোমাদের পাপের শাস্তি হবে বিনাশ। তোমরা প্রকৃতির ভারসাম্য নষ্ট করেছ, লোভ ও স্বার্থে পূর্ণ তোমাদের মন। তাই এখন তোমাদের ধ্বংস অনিবার্য।"

আকাশবাণী শুনে ভয়ে কাঁপতে লাগল গ্রামের মানুষ। কিন্তু যুবকটি ভয় পেল না। সে আকাশবাণীর উদ্দেশ্যে বলল, "হে দেবতা, আমাদের ভুলের জন্য ক্ষমা চাই। আমরা আমাদের ভুল শুধরে নেব। প্রকৃতির সাথে মিলেমিশে বেঁচে থাকব।"

আকাশবাণী থেমে গেল। ধোঁয়া সরতে লাগল। আর তারপর, আবার ভেসে এলো আকাশবাণী।

"তোমাদের অনুশোচনা মানলাম। তবে তোমাদের প্রমাণ করতে হবে যে তোমরা সত্যিই বদলে গেছ। প্রকৃতির সাথে মিলেমিশে বেঁচে থাকার প্রতিশ্রুতি পালন করতে হবে। তাহলেই রক্ষা পাবে তোমরা।"

আশার আলো দেখা গেল গ্রামের মানুষের মুখে। তারা সিদ্ধান্ত নিল, প্রকৃতির সাথে সঙ্গতিপূর্ণভাবে বেঁচে থাকবে তারা । পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার জন্য কাজ করবে তারা ।

দিন যত গেল, গ্রামের মানুষ তত বদলে যেতে লাগল। তারা বৃক্ষরোপণ শুরু করল, নদী পরিষ্কার করল, রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের ব্যবহার কমিয়ে দিল।

একদিন, আবার ভেসে এলো আকাশবাণী।

"তোমাদের প্রচেষ্টা সফল হয়েছে। তোমরা প্রমাণ করেছ যে তোমরা বদলে গেছ। তাই এখন থেকে তোমরা বিনাশের হাত মুক্ত থাকবে থেকো।"

গ্রামের মানুষ আনন্দে উল্লাস করতে লাগল। তারা বুঝতে পারল, প্রকৃতির সাথে সঙ্গতিপূর্ণভাবে বেঁচে থাকলেই আসল সুখ ও সমৃদ্ধি পাবে তারা।