করবীঃ এতো ভোর বেলায়! গগন রবির উদয়ের আগেই বুঝি তোমার উদয় হয়েছে? নাকি অন্ধকারের আলিঙ্গনে আরও একটি নির্ঘুম রাত্রির পরে ভোরের আলোয় নিজেকে মেললে?
রবিঃ আসলে অন্ধকারের সব রঙ গায়ে মেখে রাত্তিরের জ্যোৎস্নাটা আরো পুস্ফটিত করতে চেয়েছি হয়তো। রবির আগে উদিত ঠিকই, ভোরের করবীর প্রতীক্ষায়।
করবীঃ ভোরের করবীকে পেলে? দক্ষিণা শায়নে চোখ মেললে আলো ছাড়াও তাকে দেখতে পাও তুমি। ভোর পর্যন্ত অপেক্ষা কেন নির্ঘুম? নাকি প্রেমের পাশাপাশি দহনও স্থায়ী কয় শব্দে শব্দে?
রবিঃ কবিতাকে শুধু সুখের পরিধিতে সংকোচন করা ঘোরতর পাপ। এতে বিষাদের শব্দ অন্তর ফুঁড়ে শব্দে ঠাই নিতে ব্রতি হয়। তাই যে রাতে অপার সুখ তোমার মুখ ভেবে, সে রাতেও মাঝে মাঝে বিষাদকেও ডাকি স্পর্ধায়। অশরীরী ভাবনা ছেড়ে মূর্ত লোভের তাড়নায়।
করবীঃ বাব্বা! কথার জুড়ি নেই। আমার শব্দে এতো যাতনা না এলেও মনের গহীনে কারো স্পর্শ ঈপ্সিত। তাই করবী তার ঘ্রাণ ধরে রাখে রবির আবির্ভাবের প্রতীক্ষায়, শতদল হাতে নিয়ে নিজেকে করতে সমর্পণ অভিমানী রাত্রির অবসানে।
রবিঃ রবিও তখন তৃপ্তির উৎকণ্ঠায় জ্যোতির্ময় হয় ঘ্রাণে অঘ্রাণে , করবীকে ভালোবেসে।
Comments (2)