জীবনের পথে হাটতে হাটতে একাকীত্বের খুব কাছে চলে এসেছি, তাই বোধয় সব ভাললাগা থেকে এখন অনেক দূরে বাস করছি। বুকের ভেতর একটা মাকড়শা খুব সূক্ষ জাল বুনেই চলছে আর সেই জালে হতভাগা সুখ গুলো আটকা পড়ছে একের পর এক!
সারাদিন কতো কিছু নিয়ে ব্যস্ত থাকি। মাঝে মাঝে এতো বেশী ব্যস্ত হয়ে পরি যে নিজের অস্তিত্বই ভুলে যাই। ভুলে যাই আমি আছি না কি নেই! দিনের ব্যস্ততা আমাকে আমার থেকে দূরে সরিয়ে নিয়ে যায়।কিন্তু দিন শেষে ঘরে ফেরা ক্লান্ত হতাশা গুলো ধেয়ে এসে গা এলিয়ে দেয় আমার ওপর। মাথার ভেতর গেড়ে বসে আর বুড়ো বট গাছটার মতো শেকড় ছড়াতে থাকে! আর তখন ভীষণ আস্তে ধীরে চলতে থাকে আমার ঘড়ি। যন্ত্রণার প্রহর যেন কাটতেই চায় না।একটা উত্তাল ঝড় মনটাকে তোলপাড় করতে থাকে ক্রমশ। ঝড়টা কিছুতেই থামতে চায় না। যেন সব ধ্বংস করে তারপর শান্ত হবার একটা চুক্তি করেই এসেছে সে।
সে ঝড়টাকে থামাতে পারি না। নিজের মনটাকে আয়ত্তে আনতে পারিনি আজ অব্দি। কি অদ্ভুদ!! নিজের মনের ওপর নিজেরই নিয়ন্ত্রণ নেই। মনকে কি আর ভুলভাল বুঝিয়ে আটকে রাখা যায়? মনতো আর অবুঝ শিশুটি নয় যে রূপকথার মিথ্যে গল্প শুনিয়ে ঘুম পাড়ানো সম্ভব!
দিনের আলোয় নিজেকে ধোকা দেয়াটা সহজ হলেও রাতের আঁধারে তা সম্ভব হয় না! অন্ধকারে যখন নিজের ছায়াটি পর্যন্ত সঙ্গ দেয় না তখন কোন কিছুতেই তাকে আশ্বস্ত করা যায় না। সেই মুহুর্তে অবিশ্বাসের গাঢ় একটা আস্তরন এসে ঢেকে দিয়ে যায় আমার সমস্ত বিশ্বাস!
এভাবে কতো রাত নির্ঘুম কেটে গেছে তার হিসেব রাখিনি। হিসেব রাখিনি ইচ্ছে করেই, কারন সঠিক হিসেব মেলাতে গেলে ভুল করে বসবো। অংকে আমি বরাবরেই কাঁচা!
রাত বাড়ে তার সাথে বাড়ে এক পৃথিবী দীর্ঘশ্বাস! শিমুল তুলোয় গড়া বালিশটার ওজন বেড়ে দ্বিগুন হয়ে ওঠে। ঘরের ভেতর ছাদের নিচে বসেই বৃষ্টির জল ছুতে পাই! নোনা জল, বিন্দু বিন্দু। বৃষ্টি থামলেই নিঃসঙ্গতার থমথমে আঁধার দুচোখ অন্ধ করে দেয়। হাতের কাছের জিনিসটি পর্যন্ত দেখা যায় না! এভেবে একে একে কাটছে আমার রোজকার অন্ধ রাত।
হতাশার চুড়ান্ত অধ্যায় থেকে আর হয়তো কয়েক পৃষ্ঠা দূরে আছি! শেষ দিকের লেখা গুলো খুব অস্পষ্ট, হয়তো সময়ের ব্যাবধানে আমার দৃষ্টি ঝাপশা হয়ে যাচ্ছে। খুব বেশী ক্লান্ত আমি।
ঢুলু ঢুলু চোখে রাজ্যের ঘুম নামতে চায় কিন্তু থেকে যায় নির্দিষ্ট দূরত্বে। নাহ ঘুম আসে না! কিন্তু আমি ঘুমোতে চাই.....
বিরতীহীন শান্তির ঘুম! গভীর তন্দ্রার ঘোরে ডুবে যেতে চাই! কিন্তু কবে?
কবে???
Comments (12)