তোমাকে যখন পেছন থেকে গুলি করা হল, তখন
কি শীতকাল ছিল? বিস্ফোরিত কার্তুজের উত্তাপে কি
কিছুটা কমেছিল শিতের প্রকোপ? আমার জানা হয়নি
এখনো। আমি জানতে চাইও না। তোমাকে ওরা
পেছন থেকে গুলো করেছিল, এটা জানার পর থেকে
ওদের সম্পর্কে আমার আর কোন আগ্রহ নেই। কাপুরুষের
বিষয়ে আগ্রহ থাকা ওদের আরও উজ্জিবিত করবে।
আমাদের চারপাশ ঘিরে এখন যে আনন্দদায়ক
আবহাওয়া,আমাদের তরুণীদের এইযে উচ্ছল প্রানবন্ত
পথচলা, না জানি এসব দেখে তুমি কি ভাবছ!কিন্তু
বিশ্বাস কর হে প্রিয়তম বন্ধু আমার,তোমার বিধবা
স্ত্রীর প্রতি আমাদের সম্মান এতটুকু কমেনি। তোমার
সন্তান হারা মাকে আমরা এখনো আগলে রাখি পরম
মমতায়। আমাদের এই আনন্দ উচ্ছাস তোমার রক্তের
দান, এটা মনে করেই এখনো তারুন্যের চিৎকারে উজ্জীবিত
শাহবাগ।
তবুও এখনো ফুটপাতে অনাহারী মানুষের ভিড়।পার্কের
আলোআঁধারিতে এখনো কেনাবেচা হয় মেয়ে মানুষ।
ডাস্টবিনের আবর্জনার মাঝে এখনো খাবার খোঁজে কুকুর
আর টোকাই পাশাপাশি।এখনো শীতের রাতে শরীর কুঁকড়ে
বসে থাকে অসহায় মানুষ।এসব দেখে আমি নিজেকে আড়াল
করি শহীদ মিনার থেকে।অনেক দিন আমি শহীদ মিনারে
যাই না।
এই ইতিহাসগুলো আমি লিখে রেখেছি আমার ডায়রিতে।
কালো কালিতে লেখা এই ইতিহাস আমার সন্তানের চোখে
জল ঝরাবে,সে কোনদিন ‘‘তুমি’’ হবে।তারপর আমি
শহীদমিনারে যাবো।
জয়দেবপুর।
১৮/১১/১৪।।
Comments (16)