পরবাসে থাকি
জামাল উদ্দিন জীবন

তোমার চর্ম চক্ষুতে হয় না অবলোকন কেন?
সেই চির চেনা মুখ খানি আমার এখন আর
যে ছিল তোমার আপন প্রিয় জন জীবনে
যতনে রেখেছিলে তুমি হৃদয়ের গহীন কোণে।

আজতো হয় না দেখা জগতের কোন খানে
ফাগুন দোলার আগুন তিলে তিলে জলে
হিয়ার মাঝে ব্যথার ঢেউ বয়ে বয়ে চলে
পরম সুখের সে পরশ খানি গায়ে মাখি না।

কতো দিন গত হলো এক সাথে পথে হটি না
গাঁয়ের মেঠো পথে হারিয়ে গেছি কতোটা দূর
নিঝুম বনে নির্জনে সন্ধ্যা বেলা হত দেখা দুজনে
সকলের মতো আমিতো হারিয়ে যাব একদিন।

শোধ করে দিয়ে তোমার প্রেমের সকল ঋণ
আজ বড় অবেলায় নদীর ঘাটে বসা সেজোতি
আন মনে বসে একা একা তুমি ভাবছো কার কথা
হিজল তলির মেলায় হয়ে ছিল পরিচয় দুজনে।

তোমার কি মনে পড়ে সে মধু ক্ষণের দিনটির কথা?
চোখে চোখ হাতে হাত রেখে তাকিয়ে থাকা দুজনে
তোমার বিশ্বাসের প্রতিচ্ছবি খুঁজে ফেরা অজান্তে
আজ তাকে ফেলে রয়েছো তুমি সুখের কোন প্রান্তে।

হৃদয়ের দ্বার প্রান্তে আগমন ছিল বন্ধ করে দিয়ে
বুকে জমানো দীর্ঘশ্বাসে সকল জলে পুড়ে মরে
সকল বন্ধন ছিন্ন করে তুমি চলে গেছো আজ দূরে
বহু দূরে নতুন পৃথিবীর মানুষ হয়ে সকল ভুলে।

তোমার সুখের রাজ্যের কখনও দুঃখের ঝড় হয়ে
আস বোনা কভু তোমার সুখের প্রদীপ নিভাতে
আপন হাতে যন্ত্রণার নীল বিষে রাঙিয়ে দিতে গো
আমি ভালোবেসে তোমার আপন হতে চেয়েছিলাম।

তুমি কাছে রাখলে না পর করে দিলে আমায়
আজ আমি বহু দূর দেশে থাকি তোমার সীমানার
বাহিরে পরবাসে করি বসবাস আপন কেহ নাইরে
আর যেন হয় না মনে আমার কথা তোমার জীবনে।
১০.০৫.২০১৭ জীবন মোহাম্মাদপুর ঢাকা।